মাসুমুর রহমান মাসুদ
ডেভিড ডিওপের কবিতা নিয়ে আলোচনার প্রথমে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ডেভিড ডিওপ নামে দুজন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্রান্স সাহিত্যিক রয়েছেন। একজন হলেন ডেভিড মান্দেসি ডিওপ (১৯২৭-১৯৬০) যিনি ‘নেগ্রিচ্যুড সাহিত্য আন্দোলন’-এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তিনি একজন কবি। অপর জন হলেন ডেভিড ডিওপ (জন্ম ১৯৬৬)। তিনি একজন ঔপন্যাসিক এবং প্রথম ফরাসি লেখক হিসেবে ‘অ্যাট নাইট অল ব্ল্যাড ইজ ব্ল্যাক’ উপন্যাসের জন্য ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পায়েছেন। এই আলোচনা কবি ডেভিড মান্দেসি ডিওপের কবিতা নিয়ে।
ডেভিড মান্দেসি ডিওপ (ডেভিড ডিওপ) আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একজন ফরাসি কবি। ১৯২৭ সালের ৯ জুলাই ফ্রান্সের বোর্দোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একজন সেনেগালিজ এবং মাতা ক্যামেরুনিয়ান। পিতা এবং মাতার ভিন্ন দুটি দেশই পশ্চিম আফ্রিকার। যখন কবির জন্ম তখন ও তার আগে দুটি দেশই দীর্ঘ বছর ধরে পরাধীন ছিল। দুই দেশের জনগণের প্রতি তার জাগরণের ডাক কবিতায় লক্ষ্যণীয়। ১৯৫৯ সালে সেনেগাল এবং তৎকালীন ফরাসি সুদান (বর্তমান মালি) একত্রিত হয়ে ‘মালিয়ান ফেডারেশন’ গঠন করে। এ ফেডারেশনই মূলত ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতার দাবি জানায়।
১৯৬০ সালের ৪ এপ্রিল ফ্রান্সের সঙ্গে এ স্বাধীনতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও পরবর্তীতে মালি ও সেনেগাল আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবুও ৪ এপ্রিলকেই সেনেগালের জাতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। অপরদিকে ক্যামেরুন দুটি ভিন্ন ধাপে স্বাধীনতা লাভ করে। ফরাসি-নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরুন (ফ্রেঞ্চ ক্যামেরুন) ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি এবং ‘ক্যামেরুন প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরুন (সাউদার্ন ক্যামেরুনস) যুক্তরাজ্যের শাসন থেকে ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর স্বাধীনতা লাভ করে ফ্রেঞ্চ ক্যামেরুনের সাথে যুক্ত হয়ে ফেডারেল রিপাবলিক অব ক্যামেরুন গঠন করে। এই দীর্ঘ পরাধীনতা, শাসনের নামে নির্যাতন, নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ পাওয়া যায় ডিওপের কবিতায়।
তিনি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন এবং তাঁর কবিতাগুলো ‘প্রেজেন্স আফ্রিকেন’-এ প্রকাশিত হয়। প্যারিসে থাকাকালীন তিনি ‘নেগ্রিচ্যুড সাহিত্য আন্দোলন’ ধারায় লেখালেখি করে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর কাব্যিক শিল্পকর্মকে উপনিবেশবাদের সমালোচনা এবং ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সময়ের অন্যান্য নেগ্রিচ্যুড লেখকদের মতো ডিওপও একটি স্বায়ত্তশাসিত আফ্রিকা গড়তে চেয়েছিলেন। এ আন্দোলনে তিনি ‘কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি তাঁর ঘৃণা ও প্রতিবাদ প্রকাশের পাশাপাশি একটি স্বাধীন সার্বভৌম আফ্রিকার জন্য তাঁর দীর্ঘকালের আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তোলে। ১৯৬০ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘কুপস দ্য পিলন’ (মুষলের আঘাত) ১৯৫৬ সালে ‘প্রেজেন্স আফ্রিকেন’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
‘প্রেজেন্স আফ্রিকেন’ একটি ত্রৈমাসিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক পত্রিকা। পরে এটি এটি প্রকাশনা সংস্থায় রূপ নেয়। ফরাসি ভাষার নামটির আক্ষরিক অর্থ ‘আফ্রিকান উপস্থিতি’। মূলত আফ্রিকানদের অপ্রকাশিত কথা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এটি কাজ শুরু করে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আফ্রিকার উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন এবং কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে পত্রিকাটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে সেনেগালিজ বুদ্ধিজীবী ও দর্শনের অধ্যাপক আলিউনে ডিওপ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের বুকে বসে আফ্রিকার নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, দর্শন ও সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা এবং ঔপনিবেশিক শক্তির কারণে কৃষ্ণাঙ্গদের যে আত্মপরিচয় সংকটে পড়েছিল তা পুনরুদ্ধার করা। এ পত্রিকার হাত ধরেই গতি পায় নেগ্রিচ্যুড সাহিত্য আন্দোলন। আইমে সেজেয়ার এবং লিওপোল্ড সেদার সেংঘর-এর মতো আফ্রিকান বিখ্যাত কবি ও চিন্তাবিদরা এ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
ডেভিড মান্দেসি ডিওপের ‘কুপস দ্য পিলন’ কাব্যগ্রন্থে মূলত আফ্রিকার মানুষের ওপর ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার, শোষণ এবং একই সাথে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে আফ্রিকানদের জেগে ওঠার ও তীব্র জোরালো আঘাত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যাতে ঔপনিবেশিক শক্তির সমস্ত কিছু ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। কাব্যগ্রন্থটি পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে সাইমন মোন্দো এবং ফ্রাঙ্ক জোন্স কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত হয়ে ইংরেজি সংস্করণ ‘হ্যামার ব্লৌজ’ নামে কবির মৃত্যুর ১৫ বছর পরে আফ্রিকান রাইটার্স সিরিজে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থের ‘ক্লোজ টু ইউ’ কবিতায় তাঁর স্মৃতি কাতরতা দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।
তোমার সান্নিধ্যে আমি ফিরে পেয়েছি আমার নাম,/ বহুদূরের নোনা জলের নিচে যে নাম লুকিয়ে ছিল বহুদিন।/ ফিরে পেয়েছি এমন চোখ যা আর জ্বরের ঘোরে ঝাপসা নয়,/ আর আঁধারের বুকে ছিদ্র করে জ্বলে ওঠা আগুনের মতো তোমার সেই হাসি-/ গতকালের বরফ পেরিয়ে আফ্রিকাকে ফিরিয়ে দিয়েছে আমার কাছে।/ আমার ভালোবাসার দশটি বছর,/ ভ্রান্তির সকাল আর ভাবনার যত ধ্বংসস্তূপ,/ আর অ্যালকোহলে বুঁদ হয়ে থাকা অবশ ঘুম।/ দশটি বছর, আর এই পৃথিবীর নিঃশ্বাস আমার ওপর/ ঢেলে দিয়েছে তার চরম যন্ত্রণা;/ যে যন্ত্রণা আগামী দিনের স্বাদ দিয়ে ভরিয়ে তোলে বর্তমানকে,/ আর ভালোবাসাকে বানিয়ে দেয় এক সীমাহীন নদী।/ তোমার সান্নিধ্যে আমি ফিরে পেয়েছি আমার রক্তের স্মৃতি,/ আর দিনগুলোর গলায় পরিয়ে দিয়েছি হাসির নেকলেস-/ যে দিনগুলো নতুন করে পাওয়া আনন্দের ছটায় ঝলমল করে ওঠে। (অনুবাদ-লেখক)
আরও পড়ুন
আবুল কাসেম ফজলুল হক / বিরল মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার প্রতীক
এখানে কবি ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আফ্রিকার অতীত ঐতিহ্যের মধ্যে স্বাধীনতার একটি প্রত্যাশা ছিল। কবিতাটি ‘আফ্রিকা’ কবিতার সমান্তরালে লেখা হয়েছিল। ডিওপ আফ্রিকার মানুষ এবং ঔপনিবেশিকদের নিয়ন্ত্রণে তাদের যন্ত্রণার কথা বলেছেন। তিনি একটি আশাবাদের মধ্য দিয়ে কবিতাটি শুরু করেন যে, তাঁদের দেশ শিগগরিই স্বাধীনতা পেতে চলেছে। তিনি বলেন যে, তাঁরা ‘দূরত্বের লবণ’ নামের আড়ালে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। লবণ এক ধরনের জ্বালাময়তার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁর জাতি জেগে উঠেছে এবং দাসত্বের জ্বর থেকে সেরে উঠেছে এবং তারা স্বাধীনতার আলো উপভোগ করবে।
তিনি বলেন যে, ঔপনিবেশিকরা তাঁদের অ্যালকোহল দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল। মাতৃভূমি থেকে দশ বছরের এই ব্যবধান বা বিচ্ছিন্নতা কথকের হৃদয়ে তীব্র বেদনার সৃষ্টি করে। তিনি বলেন যে, তাঁরা ভবিষ্যতের ভালো কিছু আশা করে তাঁদের বর্তমান সময় পার করছেন। ভালোবাসা একটি অগাধ নদীর মতো। কবি বলেন যে, কেবল তাঁর মাতৃভূমিতেই তিনি তাঁর আসল পরিচয় খুঁজে পেতে এবং অনুভব করতে পারেন এবং নিজেকে সম্পূর্ণ মনে করেন। একদিন না একদিন মানুষ আনন্দের নেকলেস এবং স্বাধীনতার সুখ পরিধান করবে। তিনি একটি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে কবিতাটি শেষ করেন, যেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে একদিন তারা স্বাধীনতার বাতাসে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারবেন।
এই মুক্তির প্রত্যাশা তার পূর্বপুরুষের বংশানুক্রমিক, যারা ঔপনিবেশিক শক্তির দ্বারা নিপীড়িত হয়েছিলেন। ডিওপের ‘মুখোমুখি’ কবিতায় আফ্রিকাকে শত্রু মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। কবিতায় ভীত মাথা নত আফ্রিকানদের মৃত্যুর পরোয়া না করে- প্রতিবাদ জানিয়ে চিৎকার করে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর অনুরোধ লক্ষ্য করা যায়। যেখানে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তুমি, যে আভূমি আনত হয়ে আছ, যার চোখে শুধু জল,/ তুমি, যে একদিন নির্ঘাত মারা পড়বে কিন্তু জানবে না কেন/ তুমি, যে লড়ে যাচ্ছ যাতে ক’রে অন্যদের নিদ্রা হতে পারে/ নিরাপদ ও শত্রুমুক্ত,/ তুমি, যার চোখ ভুলে গিয়েছে দৃষ্টিতে ঠিকরে-পড়া হাসির উচ্ছলতা,/ তুমি, যে আমার ভাই কিন্তু যার মুখ ভয়ার্ত বেদনায় এবড়োথেবড়ো,/ একবার ওঠো, দাঁড়াও, চিৎকার ক’রে বলো, না। (অনুবাদ: মোহাম্মদ রফিক, তৃতীয় বিশ্বের কবিতা)
ডেভিড ডিওপ তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় পরাধীন আফ্রিকানদের শৃঙ্খল ভেঙে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর এবং প্রতিবাদ করার ডাক দিয়েছেন। কবিতায় সাদা ফুল বলতে মূলত ক্ষয়িষ্ণু শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তিকে রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে, যাদের আধিপত্য ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বহু বছরের শোষণ আর ত্যাগের পর যে স্বাধীনতা আসে, তা সহজে পাওয়া মধুর কোনো ফল নয়। এর পেছনে থাকে অনেক রক্ত ও লড়াইয়ের তিক্ত স্মৃতি।
প্রাগৈতিহাসিক শ্যাভ্যান্যার বীর পূর্বপুরুষদের অহংকার/ গর্বিত আফ্রিকা/... / যে-পিতৃভূমির জন্যে আমার প্রপিতামহী গান গেয়েছিলেন/ দ্রুতধী উদ্দাম খোলা নদীর তীরে/.../ তবু তোমার রক্ত গতিময় আমার সকল শিরায়/ তোমার শ্রীময়ী কৃষ্ণ-রক্তস্রোতে শস্যক্ষেত্র ফলবতী হয়/ তোমার রক্তের ঘাম/ তোমার ঘামের শ্রম/ তোমার শ্রমের দাসত্ব/ দাসত্ব তোমার শিশুদের/.../ তুমি কি আজ ন্যূব্জদেহ?/ অত্যাচারে-শোষণে তুমি কি নেতিয়ে-পড়া অস্তিত্বের কাছে ছিন্নভিন্ন?/ তোমার পিঠে রক্তচিহ্নময় লাল ক্ষত/..../ এবং সর্বত্র শাখা-প্রশাখা জুড়ে সফেদ এবং রঙিন ফুল/.../ তিলে-তিলে গ্রহণ করছে স্বাধীনতার তিক্ত স্বাদ। (অনুবাদ: মুজাহিদ শরীফ, তৃতীয় বিশ্বের কবিতা)
আরও পড়ুন
আবুল কাসেম ফজলুল হক: বাংলা মননের প্রজ্ঞাপুরুষের প্রস্থান
কবি ডেভিড ডিওপের কবিতায় ঔপনিবেশ বিরোধী চেতনা দৃঢ়ভাবে লক্ষ্য করা যায়। যদিও উত্তর উপনিবেশবাদ তত্ত্বের উদ্ভব ও যাত্রা সাধারণ রাজনৈতিক পরিবেশের বিরোধিতা থেকে যাকে সর্বপ্রথম কেতাবি রূপ দেন ‘ফ্রঁৎস ফ্যানন’ (১৯২৫-১৯৬১)। তাঁর ‘ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস’ ১৯৫২ সালে এবং ‘দ্য রেচেড অব দ্য আর্থ’ ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। এই দুটি বই প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দেখান, উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম তিনটি পর্যায়ের মধ্যে দিতে এগোয়।
প্রথম পর্যায়: উপনিবেশিক জাতি রাজনৈতিক চেতনা লাভ করে।
দ্বিতীয় পর্যায়: জাতি তার আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে চায় নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরাবিষ্কার ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
তৃতীয় পর্যায়: সরাসরি সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে।
তবে ডেভিড ডিওপ এই তত্ত্ব আবিষ্কারের আগেই এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়।
‘শহীদের সময়’ কবিতায় আফ্রিকানদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে। আফ্রিকার আদিবাসী যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিল তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়, সুন্দরী নারীদের ধর্ষণ, প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধ করা হয়। সাদা চামড়ার মানুষরা কৃষ্ণ আফ্রিকানদের রক্তে নিজেদের হাত রঞ্জিত করে। সেই ঔপনিবেশিকদের প্রতি কবির অন্তঃহীন ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে।
সাদা মানুষ হত্যা করল আমার পিতাকে/.../ সাদা মানুষ আমার মাকে ধর্ষণ করল,/ যেহেতু আমার মা ছিলেন সুন্দরী,/ সাদা মানুষ উন্মুক্ত রাস্তায় রৌদ্রে আমার ভাইকে মাটিতে মিশিয়ে দিল/... অতঃপর সেইসব সাদা মানুষ ফিরে তাকাল আমার দিকে,/ .../ আমার মুখের ওপর ছুড়ে দিল তার ঘৃণা, থু-থু,/.../ (অনুবাদ: মোহাম্মদ রফিক, তৃতীয় বিশ্বের কবিতা)
ডেভিড ডিওপের কবিতায় পরাধীন আফ্রিকার অতীত স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম আফ্রিকা গঠনের জন্য জনগণের জাগরণ কামনা করা হয়েছে। উত্তর ঔপনিবেশিক তত্ত্বের আলোকে ডেভিড ডিওপের কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, লক্ষ্মীপুর আলিম মাদ্রাসা, চান্দিনা।
এসইউ








