রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জাতীয় পুরস্কার পেলেও চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ এখনো জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। প্রায় ৫৭ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠটি সরকারি না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি শিক্ষা, অবকাঠামো ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে জেলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী উপহার দিয়েছে। ৬ দশমিক ৩৩ একরের সুবিশাল ক্যাম্পাসে দুটি চারতলা একাডেমিক ভবনসহ আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে।কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৬ জেলার মধ্যে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ অন্যতম একটি বড় প্রতিষ্ঠান। অথচ এই কলেজের পরে প্রতিষ্ঠিত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে জাতীয়করণ হলেও এই কলেজটি এখনো অবহেলিত। কলেজটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। অভিভাবকদের মতে, কলেজটি সরকারি হলে শিক্ষার ব্যয় কমত এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ত।কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোযযাম্মেল হোসাইন বলেন, ‘হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গৌরবময় ইতিহাস ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে। অতীতে নানা কারণে জাতীয়করণ না হলেও বর্তমান সরকারের আমলে আমরা এই দাবি বাস্তবায়নের আশা করছি।’প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোস্তফা মজুমদার সুমন বলেন, ‘মজুমদার পরিবারের ভূমি দানের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ার পরও কলেজটি জাতীয়করণের বাইরে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণা দেবে।’এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সদিচ্ছার মাধ্যমে শিগগিরই হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।\