টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, ক্যাচিংঘাটা ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত প্রায় তিন ফুট পানি নেমে গেছে। তবে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করায় সীমিত আকারে ছোট যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যার পানি ও বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, লামা-আলীকদম সড়কের শীবাতলী, রেপারপাড়া ও পশ্চিম শীলের তুয়া এলাকায় সড়কের ওপর এখনও পানি থাকায় ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আলীকদমের বাসিন্দা সুজন চৌধুরী বলেন, বন্যার কারণে গত তিন দিন ধরে লামা-আলীকদম সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবাও এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার।

বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পৌর এলাকার বাসিন্দাদের শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং মশার কয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত। আর গত ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টায় জেলায় মোট ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।