বাবার লাশ কবরে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন আদিব মাহমুদ আলিফ। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তার বাবা মানিক মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশী ও তার সমর্থকরা। বুধবার মানিক মিয়াকে দফন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পর্বের পরীক্ষা ছিল। চোখের পানি মুছতে মুছতে পরীক্ষায় অংশ নেন আলিফ।

জানা যায়, আলিফকে গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এগিয়ে দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। আলিফ চোখের পানি মুছতে মুছতে কক্ষে প্রবেশ করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই বেড়িয়ে আসেন। চোখের পানিতে ভিজে যাওয়া রুমালটি রয়ে যায় বেঞ্চেই।

আলিফের বাবা মানিক মিয়া গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি। বাসা বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায়। আফিফের চাচা সুখ মিয়া জানান, তার ভাই (মানিক মিয়া) মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল আনতে জান। সেখান থেকে উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীর নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন মিলে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর দফায় দফায় পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। রাতে শোয়েবের লোকজন এসে তার ভাবিকে (মানিকের স্ত্রী) খবর দেয় এবং ভাইপোকে (আলিফ) নিয়ে যেতে বলে। দ্রুত ভাবি সেখানে যান। এরপর জোর করে ভাবির কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেন এই মর্মে যে, তার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী। ওই স্বীকারোক্তি মোবাইল ফোনে রেকর্ডও করে রাখে। এরপর স্ত্রীর কাছে অর্ধমৃত স্বামীকে তুলে দেয়। দ্রুত স্ত্রী তার স্বামীকে নিয়ে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যান। পরে যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ওদের (নিযাতনকারী) লোকজন হাসপাতালের রোগীর রেজিস্ট্রার্ড বইতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথা লেখায়। তখন ভাইয়ের স্ত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজন ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভাই যান।

তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে শোয়েবদের বিরোধ চলছিল। মূলত জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই তার ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক জানান, স্বজনদের কাছে শুনেছি মানিক মিয়াকে পিটিয়ে আহত করা হয়। তবে কী কারণে ভর্তি কাগজে সড়ক দুর্ঘটনা লেখা হয়েছে সে বিষয় বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা যায়, মানিক মিয়ার স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার সেলিনা স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে অভিযোগ দিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গৌরীপুর থানায় অবস্থান করছিলেন।

এ বিষয়ে শোয়েব মুনশী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওদের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। মাদক ব্যবসার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা-ভিত্তিহীন অপবাদ ছড়াচ্ছে।

এদিকে জনবিরোধী নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শোয়েব মুনশীকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।