পঞ্চম দিনের মতো রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০টি গ্রামে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার মধ্যম পাড়া, মাস্টার পাড়া, মুসলিম ব্লক, হাজী পাড়া, এফ ব্লক, পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকার পুরোটাই পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও সাজেক, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা, বাঘাইছড়ি, সারোয়াতলী ও আমতলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেছেন, “২০০৭ সালের পর বাঘাইছড়িতে এত পরিমাণ পানি হয়নি। যেদিকে তাকাই পানি আর পানি। গ্রামের পর গ্রাম ডুবে গেছে।”
রমজান আলী বলেন, “যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন, তারা খাবার পেলেও অনেকেই গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির জন্য ঘর ছেড়ে যেতে পারেননি। তারা ত্রাণ পাচ্ছে না। তাদেরকে অভুক্ত দিন কাটাতে হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটির ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ৩ হাজারের বেশি। প্রশাসন থেকে তাদেরকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৯৭টি স্পটে পাহাড়ধস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়েছে। পরে সড়ক বিভাগ মাটি সরিয়ে নেওয়ার পর ঘণ্টাখানেক পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পাঁচ শতাধিক পর্যটক দ্বিতীয় দিনের মতো সাজেকে আটকা রয়েছেন। দীঘিনালা-সাজেক সড়কের পাঁচটি পয়েন্টে পানি ওঠায় তারা সাজেক ত্যাগ করতে পারছেন না। দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, “বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সড়ক বিভাগ দ্রুত মাটি সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। ভারী বর্ষণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ২০টি স্পটে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। আপাতত সবগুলো সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।”
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, “জেলার ৯৭টি স্পটে পাহাড় ধসে পড়েছে। ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আমরা তাদের তিন বেলা খাবার দিচ্ছি।”
তিনি জানান, বাঘাইছড়িতে বন্যার কারণে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এমপি এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বুধবার রাতে পৃথকভাবে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তারা সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।








