কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার সড়কটারী অংশে প্রায় ৩০ মিটার ব্লক পিচিং নদীতে ধসে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন।
পরে রাতেই এলাকাবাসী বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে পাউবো জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে ১৬ জুলাই একই এলাকার প্রায় ২০০ গজ দূরে ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। চলতি জুলাই মাসে চার দফায় অন্তত ২০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও আবাদি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ তীররক্ষা বাঁধ ২০১৮ সাল থেকেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড় কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। বারবার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, নদীর গতিপথ পরিবর্তনে অন্তত তিনটি টি-বাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।
স্থানীয় ফরজ উদ্দিন ডেসকা বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। তখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ডাকা হয়। আমরা কয়েকটি জিও ব্যাগ ফেলি। পরে সকালে পাউবোর লোকজন এসে কাজ শুরু করেন।’

সড়কটারী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফেলানী বেওয়া (৭৫) বলেন, ‘সোমবার বিকেল থেকে হঠাৎ করেই নদীর পানি বাড়ি বাঁধ ধসি যাওয়া শুরু করছে। নদীভাঙা শুরু হলেই বুকটা কাপি ওঠে। এই বয়সে আর ভিটেমাটি হারালে যামো কনটে।’
ভাঙন মোকাবিলার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিনিধি সর্দার মজিবর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে চার দফায় ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পেলেও প্রবল স্রোতে সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। ভাঙন ঠেকাতে অন্তত এক লাখ জিও ব্যাগ এবং তিনটি টি-বাঁধ প্রয়োজন।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব তীরে নতুন চর জেগে ওঠায় স্রোত পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঁধে চাপ বেড়ে বারবার ধস হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার ডাম্পিং সম্পন্ন হয়েছে। স্থায়ী সমাধানে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হবে।’
রোকনুজ্জামান মানু/কেজে/জেআইএম








