টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বান্দরবান শহর এবং লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের আর্মি পাড়া, শেরে বাংলা নগর, ইসলামপুর, বরিশাল পাড়াসহ আশপাশের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও উঠানে পানি ঢুকে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শহরের আর্মি পাড়ার বাসিন্দা মো. ফরিদ বলেন, `টানা বর্ষণে পানি বাড়ার কারণে আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। প্রশাসন থেকে সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।'
টানা বৃষ্টি, সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ধসের কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটনস্পট ও হোটেল-মোটেলগুলো এখন পর্যটকশূন্য। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবানে মোট ১৬১ জন পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জেলার লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদরে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের পাহাড় ও বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস হলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া ও কসাইপাড়াসহ সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজার পরিবারের অপরিকল্পিত বসবাস রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় এসব পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা শহরে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রশাসন মাইকিং করেছে।
বান্দরবান আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত। এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান পৌরসভার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে।








