কাগজে-কলমে এখন চলছে বর্ষকাল। বর্ষাকালের আষাঢ় মাসের আজ ১৯ তারিখ। কিন্তু বর্ষাকালে নেই তার চিরচেনা রূপে। বরং রয়েছে সূর্যের উত্তাপ, প্রচণ্ড রোদের ঝাঁজালো তেজ, আছে ভ্যাপসা গরম। তাই অতিষ্ঠ জনজীবন।

তবে ভারী বৃষ্টির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর এই ভারী বৃষ্টি হতে পারে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ শুক্রবার সকালের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় বিরাজমান রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে।

দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্কতা সংকেত দেখানোর কথা জানিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে। একই সঙ্গে সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

লঘুচাপটি পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হাওয়ার লক্ষ্মণ এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি বলে জানান আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

আজ দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আজকের পত্রিকাকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটির খুব বেশি শক্তিশালী হাওয়ার লক্ষ্মণ এখনো পর্যন্ত মেলেনি। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারতে ওডিশার দিকে এগিয়ে আসছে। হয়তো লঘুচাপটি খুব বেশি শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপের রূপ নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপ বা নিম্নচাপ—যেভাবেই আসুক না কেন, আগামীকাল সন্ধ্যার পর দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তবে ৫ জুলাই রোববার থেকে ভারীর সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণের চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা অঞ্চলে। এ ছাড়া দেশের মধ্যাঞ্চল ও ঢাকায়ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।