ত্বকের যত্ন নেওয়া অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি এবং দূষণের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ ত্বক হয়ে পড়ে মলিন, ক্লান্ত এবং প্রাণহীন। এই সময়ে অনেকেই রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করেন। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি নাম হলো মুলতানি মাটি ও চন্দন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ত্বকের যত্নে এই দুই উপাদান ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে- মুলতানি মাটি ভালো, নাকি চন্দন? আসলে এর উত্তর নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও সমস্যার ওপর।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি
যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাদের জন্য মুলতানি মাটি একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। এর অসাধারণ শোষণক্ষমতা ত্বকের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ময়লা এবং দূষিত কণা দূর করতে সাহায্য করে।
ত্বক ময়লা হয়ে গেলে মুলতানি মাটি ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি সতেজ অনুভূত হয়। এটি ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত সিবাম নিয়ন্ত্রণে রাখে।
নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং ব্রণের প্রবণতা কমতে পারে। এছাড়া রোদে পোড়া ত্বকের কালচে ভাব দূর করতেও মুলতানি মাটি বেশ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
তবে যাদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে মুলতানি মাটি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। কারণ এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাও কিছুটা শোষণ করে নিতে পারে, ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য চন্দন
চন্দন শুধু তার মনোমুগ্ধকর সুগন্ধের জন্যই নয়, বরং ত্বককে শীতল রাখার গুণের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত।
রোদে বাইরে থেকে ফেরার পর অনেকের মুখে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব কিংবা অস্বস্তি দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে চন্দনের ফেসপ্যাক ত্বককে তাৎক্ষণিক আরাম দিতে পারে।
চন্দনের রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বকের দাগ, পিগমেন্টেশন এবং কালচে ছোপ হালকা করতেও সহায়ক।
যাদের ত্বক শুষ্ক, স্বাভাবিক বা খুব সংবেদনশীল, তাদের জন্য চন্দন সাধারণত বেশি উপযোগী। এটি ত্বককে শীতল রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেছে নিন
মুলতানি মাটি ও চন্দনের মধ্যে কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার ত্বকের চাহিদার ওপর।
যদি অতিরিক্ত তেল, ব্রণ বা বড় লোমকূপ হয়, তাহলে মুলতানি মাটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ১ চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।
অন্যদিকে, যদি ত্বক শুষ্ক হয় অথবা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চান, তাহলে ১ চা চা চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে কাঁচা দুধ, মধু কিংবা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বককে কোমল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।
মিশ্র ত্বকের জন্য কম্বিনেশন প্যাক
অনেকের ত্বক মিশ্র প্রকৃতির হয়। অর্থাৎ কপাল, নাক ও থুতনির অংশ তৈলাক্ত হলেও গাল তুলনামূলক শুষ্ক থাকে। এই ধরনের ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি ও চন্দনের সমন্বয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ভালো কাজ করতে পারে।
এক চা চামচ মুলতানি মাটি, আধা চা চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
এরপর মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।এই প্যাক ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সতেজ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন
সেনসিটিভ ত্বকে জন্য বাড়িতে বানান ময়েশ্চারাইজার
ব্যবহারের আগে সতর্কতা
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই নতুন কোনো ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। হাতের ভেতরের অংশে বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করুন। কোনো ধরনের চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি না হলে তবেই মুখে ব্যবহার করুন।
মুলতানি মাটি ও চন্দন-দুটিই ত্বকের যত্নে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। তবে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী হবে, তা নির্ভর করে ত্বকের ধরন ও সমস্যার ওপর।
আরও পড়ুন
ত্বককে সতেজ রাখতে বাড়িতে বানান নিমের ফেসওয়াশ
তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি বেশি উপযোগী, আর শুষ্ক, সংবেদনশীল বা নিস্তেজ ত্বকের জন্য চন্দন হতে পারে আদর্শ সমাধান। তাই অন্যের পরামর্শে নয়, নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে সঠিক উপাদানটি বেছে নিন। তাহলেই এই গরমেও ত্বক থাকবে সতেজ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বি বিউটিফুল
এসএকেওয়াই








