যে দলে যত বেশি তারকা প্লেয়ার সে দলের সাপোর্টার তত বেশি। এ ছাড়া যে দল বার বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, তাদের নিয়েই সমর্থকদের আগ্রহ বেশি। এর কারণ আসলে কী? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে মানুষের অবচেতন মনের কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রবণতা। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সফলতার অংশীদার হতে পছন্দ করে এবং এটি তার আত্মসম্মানবোধকে বাড়িয়ে দেয়। বার বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া দল এবং যেসব দলে তারকার প্লেয়ার বেশি তাদের তাদের অগণিত সমর্থক আছেন। আবার গত থাকার পেছনেও এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যটি দারুণভাবে কার্যকর। 

১. বাস্কিং ইন রিফ্লেক্টেড গ্লোরি বা প্রতিফলিত গৌরবে ভেসে যাওয়া মনোবিজ্ঞানে বাস্কিং একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারণা, যার অর্থ হলো অন্যের সফলতার আলো নিজের গায়ে মাখা। যখন কোনো ফুটবল দল (যেমন ব্রাজিল বা রিয়াল মাদ্রিদ) বারবার জয়লাভ করে, তখন সমর্থকরা অবচেতনভাবেই সেই জয়ের কৃতিত্ব নিজের ওপর নিয়ে নেন। দল জিতলে সমর্থকরা বলেন ‘আমরা জিতেছি’, ‘তারা জিতেছে’ নয়। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি মানুষের নিজস্ব আত্মসম্মানবোধ ও মানসিক আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

২. ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট বা স্রোতে গা ভাসানো সহজ কথায় এটি হলো ‘সবাই যেদিকে যায়, সেদিকে যাওয়া’। কোনো দল যখন টানা জিততে থাকে, তখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নিয়ে তুমুল চর্চা হয়। নতুন বা সাধারণ দর্শকরা যখন দেখেন চারপাশের সিংহভাগ মানুষ একটি নির্দিষ্ট দলের জয় উদযাপন করছে, তখন তারা দলটির প্রতি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক টান অনুভব করেন এবং দ্রুত সেই দলেই যোগ দেন। এটি সমাজে নিজের একাকীত্ব দূর করতে ও ‘ইন-গ্রুপ’ বা বৃহত্তর দলের অংশ হতে সাহায্য করে। 

৩. করফিং বা পরাজয়ের গ্লানি এড়ানোর চেষ্টা মানুষের মস্তিষ্ক স্বভাবগতভাবেই নেতিবাচক অনুভূতি বা পরাজয় এড়িয়ে চলতে চায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Corfing. দুর্বল বা বারবার হেরে যাওয়া দলের সমর্থন করলে মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ে। তাই মানসিক সুরক্ষার খাতিরে মানুষ এমন দল বেছে নেয় যাদের হারার সম্ভাবনা কম এবং যারা নিয়মিত ট্রফি জিতে তাদের মনে আনন্দ দেয়।

৪. সামাজিক পরিচয় তত্ত্ব  মানুষ তার সামাজিক পরিচয়ের মাধ্যমে নিজের একটি শক্তিশালী সত্ত্বা তৈরি করতে চায়। একটি বিশ্বজয়ী এবং ঐতিহ্যবাহী দলের (যেমন ব্রাজিল) জার্সি গায়ে জড়ানো বা তাদের সমর্থন করা সমর্থককে একটি গৌরবময় ও শক্তিশালী গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে ফুটিয়ে তোলে। 

৫. ডোপামিন ও মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা  খেলা দেখার সময় মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। প্রিয় দল জিতলে এই হরমোনের নিঃসরণ তীব্র হয়, যা মানুষকে পরম আনন্দ দেয়। যে দল যত বেশি জেতে, সেই দলের সমর্থকদের মস্তিষ্ক তত বেশি এই আনন্দের মুখোমুখি হতে চায়। ফলে ডোপামিনের এই আসক্তির কারণে মানুষ জয়ী দলের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হয়। 

সূত্র: স্পিকিং অব সাইকোলজি