প্রশ্ন: শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হলে আমি যদি রক্ত গড়িয়ে পড়তে না দেই, বারবার টিস্যু বা তুলা দিয়ে মুছে ফেলি, তাহলেও কি অজু ভেঙে যাবে?
উত্তর: অজু ভঙ্গের কারণসমূহের মধ্যে একটি হলো, শরীরের যে কোনো জায়গা থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়া অথবা গড়িয়ে পড়বে এই পরিমাণ রক্ত বের হওয়া। সুতরাং আপনি যদি ক্ষতস্থান বার বার মুছে রক্ত গড়িয়ে পড়তে না দেন, কিন্তু বের হওয়া রক্ত এই পরিমাণ হয় যে আপনি না মুছলে গড়িয়ে পড়তো, তাহলে অজু ভেঙে যাবে।
তবে যদি তুলা বা টিস্যু দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরার কারণে বা ব্যান্ডেজ লাগানোর কারণে গড়িয়ে পড়বে এই পরিমাণ রক্ত বের হতে না পারে, তাহলে অজু ভাঙবে না।
আরও পড়ুন
যে ৪ আমলের জন্য অজু ফরজ
যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়
- ১. প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব, পায়খানা, বাতাস, ক্রিমি ইত্যাদিসহ যে কোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙে যায়।
- ২. শরীরে যে কোনো জায়গা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে অজু ভেঙে যায়।
- ৩. খাবার, পানি, রক্ত বা পিতের পানি মুখ ভরে বমি হলে অজু ভেঙে যাবে। অল্প অল্প করে কয়েক বার যদি বমি হয় এবং সবগুলোর মিলিত পরিমাণ যদি মুখ ভরে কৃত বমির সমান হয়, তাহলেও অজু ভেঙে যায়।
- ৪. দাঁত বা মাড়ি থেকে অল্প রক্ত বের হলে অজু ভাঙবে না। কিন্তু যদি বেশি রক্ত বের হয়, থুথু ফেললে যদি দেখা যায় থুথুর চেয়ে রক্তের পরিমাণ বেশি, তাহলে অজু ভেঙে যায়।
- ৫. যৌনাঙ্গ থেকে মযী (অর্থাৎ যৌন উত্তেজনার সময় বীর্য বের হওয়ার আগে সাধারণত যা নির্গত হয়) বের হলে অজু ভেঙে যায়।
- ৬. নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে ইস্তেহাযার রক্ত বের হলে অজু ভেঙে যায়। (হায়েয নেফাস ছাড়া কোনো অসুস্থতার কারণে নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হলে তাকে ইস্তেহাযা বলা হয়)।
- ৭. নারীদের স্তন থেকে দুধ ছাড়া অন্য কিছু যেমন রক্ত, পুঁজ বা শরীরের রস বের হলে অজু ভেঙে যায়।
- ৮. নারীরা নিজেদের যৌনাঙ্গে আঙুল প্রবেশ করালে অজু ভেঙে যায়।
- ৯. পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হতে পারে এমনভাবে ঘুমালে, কিছুক্ষণ বেহুশ থাকলে বা উন্মাদ থাকলে অজু ভেঙে যায়।
- ১০. নামাজের মধ্যে অট্টহাসি হাসলে অজু ভেঙে যায়।
অজুর নিয়ত ও দোয়া
ওএফএফ








