এক হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ, অন্য হাতে চোখের জল মুছতে মুছতে স্বামীর বসতভিটা থেকে বের হয়ে আসছিলেন ৬৫ বছর বয়সী রাশেদা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, নিজের সম্পত্তি ছেলের নামে লিখে না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ছেলের চাপ ও বিরোধের মুখে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ভাইদের সঙ্গে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে রোববার (৫ জুলাই) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন রাশেদা বেগম। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‌‘১০ মাস ১০ দিন তোকে পেটে ধরছি, আজ তুই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলি। আমি তাদের জন্য কী করি নাই! আল্লাহ, তুমি এর বিচার আগে করবা। আর আজকে তুই আমারে সম্পত্তির জন্যে, টাকার জন্যে বের করলি। সম্পত্তি, টাকা কোনোদিনই হয় না। মা একদিকে, টাকা একদিকে। আল্লাহ, তুমি এদের বিচারটা আগে করবা। ওদের বুঝ দিও আল্লাহ। আর ওর সাথে হাত মিলায়া আমারে নামায়া দিতেছে, ওর শান্তির জন্য, ওর এটার জন্য। আমি খালি আল্লাহর কাছে কমু, আমি আর কারও কাছে কমু না। আমি ৫০ বছর ধরে এই বাড়িতে আইছি। গতকাল থেকে আমার খাওয়া নাই, আমার ঘুম নাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেন্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার মারা যাওয়ার পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। রাশেদা বেগম ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ৫৬ শতাংশ জমি প্রায় আট লাখ টাকায় ভাইদের কাছে লিখে দেন। পরে সেই অর্থ দিয়ে নিজের নামে জমি কেনেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ছেলে তার নামে থাকা সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সবশেষ রোববার সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে রাশেদা বেগম রাজি হননি। এরপর তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে তার ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হৃদয় আহম্মেদ/এসআর/জেআইএম