প্রথমে একটি গোল করেছিলেন ফোলারিন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে আবারও গোল করলেন তিনি। তাতে প্রথমার্ধে দারুণ আধিপত্য দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে আছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা না পেলেও প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের গোলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত লিড পায় মার্কিনরা।

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায় মওরিসিও পোচেত্তিনোর দল। প্রথম ২৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল ৭৮ শতাংশ বল, যেখানে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে ছিল। তবে আধিপত্য থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে কিছুটা ভুগতে হয় স্বাগতিকদের।

তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি পায় ইউরোপের দলটিই। ১০ মিনিটে গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের লম্বা কিক থেকে এডিন জেকো বল নিয়ন্ত্রণে এনে এরমেদিন দেমিরোভিচকে বাড়িয়ে দেন। দেমিরোভিচের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। কর্নার থেকে আবারও কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও গোল আদায় করতে পারেনি বসনিয়া।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ মিনিটে অ্যান্টনি রবিনসনের ক্রস থেকে বালোগুনের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৮ মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির চমৎকার পাসে রবিনসনকে খুঁজে পেলেও গোলরক্ষক ভাসিলজ দ্রুত বেরিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন।

ক্রমাগত আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৩১ মিনিটে বল জালেও জড়িয়ে ফেলেছিলেন বালোগুন। ম্যাককেনির বাড়ানো পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন তিনি। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় উল্লাস থেমে যায় যুক্তরাষ্ট্রের।

২৯ মিনিটে বক্সের ভেতর বালোগুনকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে পেনাল্টির আবেদন জানায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা। তবে রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। ৩৭ মিনিটেও বক্সে মুহারেমোভিচের সঙ্গে বালোগুনের সংঘর্ষে আরেকটি সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি উঠলেও সেখানেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন ম্যাচ অফিসিয়াল।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশেষে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪৫ মিনিটে মালিক টিলম্যান বালোগুনকে লক্ষ্য করে পাস বাড়ান। বলটি দুই বসনিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আবার বালোগুনের সামনেই চলে আসে। সুযোগটি আর নষ্ট করেননি তিনি। গোলরক্ষক ভাসিলজের সঙ্গে একা হয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। ৪৫+৮ মিনিটে টাইলার অ্যাডামসের নিখুঁত লব পাস থেকে সের্জিনিও ডেস্ট বল বাড়িয়ে দেন বালোগুনের দিকে। কিন্তু এবার তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্র।

অতিরিক্ত সময়ে টেইলার অ্যাডামস ও এডিন জেকোর সংঘর্ষ এবং পরে অ্যাডামসের হাঁটুর আঘাতে আলাজবেগোভিচ কিছুক্ষণ মাঠে শুয়ে থাকায় খেলা থেমে যায়। তবে বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই প্রথমার্ধ শেষ হয়।

প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল এবং হাতে গোনা কয়েকটি পাল্টা আক্রমণ ছাড়া স্বাগতিকদের রক্ষণে তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে হলে বসনিয়াকে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই হবে, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে ব্যবধান বাড়িয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করতে।

আইএইচএস/