দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়লেও দিন দিন কমছে দেশীয় নাটক ও অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুযোগ। বিদেশি সিরিয়ালের আধিক্য, শিল্পে বিনিয়োগের অভাব এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পীরা।
আরও পড়ুন
একের পর এক পরাজয়, হিমির প্রশ্ন, ‘আর কোন দল সাপোর্ট করব?’
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী সংঘের বার্ষিক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় অংশ নিয়ে শিল্পীরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অভিনয়শিল্পী কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন।
অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, বাংলা ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়ালের কারণে দেশীয় নাটকের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। তার ভাষায়, কম খরচে বিদেশি সিরিয়াল কিনে প্রচার করায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেশীয় নির্মাণে আগ্রহ হারাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, পিক আওয়ারে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার সীমিত করার নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশীয় শিল্পী ও নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিল্পী ও নির্মাতা আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি।
অভিনেতা তৌকীর আহমেদ বলেন, দেশের অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেল এখন সংবাদ ও বাণিজ্যিক কনটেন্টকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফলে নাটক, সিনেমা ও সংস্কৃতিচর্চার পরিসর কমছে। এতে অভিনয়শিল্পীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এ সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
কয়টি প্রেম করেছেন দীঘি, মুখ খুললেন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে
অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম বলেন, অভিনয়শিল্পীদের এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশার স্বীকৃতি নেই। তিনি সহকর্মীদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, কর্মক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমেও শিল্পীদের সহযোগিতা করা জরুরি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, দিলারা জামান, ফেরদৌসী মজুমদারসহ দেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পীরা। তাদের অভিমত, শিল্প ও সংস্কৃতির টেকসই বিকাশ এবং শিল্পীদের সুরক্ষায় এখনই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এলআইএ








