দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে ঘটে গেল এক বড় পরিবর্তনের চাকা। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।শুক্রবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন অধ্যায়ের সূচনার কথা দেশবাসীকে নিশ্চিত করেন। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগের আইনি ও স্বাস্থ্যগত দিক তুলে ধরে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা ৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।"তিনি আরও যোগ করেন, "পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।"কেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেন, সেই কৌতূহলের নিরসন ঘটিয়ে তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণ ব্যাখ্যা করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং বাইপাস সার্জারিসহ জটিল অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগে ভুগছেন, যার কারণে তিনি প্রায়শই অচেতন হয়ে পড়েন।এই শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন বলে জানান নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে স্পিকার একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বলেন, "আমার মনে হয় তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে তার প্রতি তিনি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়ই।"দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তিনি জানান, পদগ্রহণের দিনই তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন করেন। কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে সেক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়।
তথ্যানুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন এবং থাকবেন সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। ইতোমধ্যেই বঙ্গভবন ও নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির বাসভবনকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।








