ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের একটি অংশকে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, বনগাঁর অদূরে হরিদাসপুর-পেট্রাপোল সীমান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবে। ভারতীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তামিলনাড়ুর আট্টুরে অবস্থিত একটি বিশেষ শিবিরে বর্তমানে ১৩০ জনের বেশি সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আবার অনেকেই আদালত থেকে জামিন পেলেও নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শিবিরেই রাখা হয়েছে তাদের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিক শনাক্তে সম্প্রতি অভিযান জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক হিসাবে নিশ্চিত হলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তে হস্তান্তরের আগে প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে। এরপর দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য জেলা পর্যায়ে পৃথক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গঠনের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি এ ধরনের কেন্দ্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে রাখা যেতে পারে।?
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার চাকপাড়া সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তের লাইট বন্ধ করে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা চালায় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শনিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, শিবগঞ্জ উপজেলার চাকপাড়া সীমান্তে ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মল্লিক সুলতানপুর ক্যাম্পের সদস্যরা বর্ডার সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে মুসলিমপাড়া এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের জন্য জড়ো করে। ঘটনা জানার পর বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীও বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। আনুমানিক ১২ জন শূন্য লাইন থেকে ৬০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মুসলিমপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিল। প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ নিজস্ব যানবাহনের মাধ্যমে তাদের ভারতের মালদা হোল্ডার সেন্টারে নিয়ে গেছে। বর্তমানে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, শুক্রবার রাতে পুশইনের আশঙ্কায় বিজিবির সঙ্গে লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট নিয়ে আমরাও সীমান্তে জড়ো হই। ?
পাটগ্রামে প্রতিবন্ধী যুবককে পুশইনের চেষ্টা : পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ভারতীয় এক প্রতিবন্ধী যুবককে (২৫) ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। ওই প্রতিবন্ধী যুবককে নিয়ে দুইদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থান করছে বিজিবি ও বিএসএফ। সূত্র জানায়, ওই প্রতিবন্ধী যুবককে গত শুক্র ও শনিবার দুই দফা বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী।








