টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদী, রেমাক্রী খালসহ ছোট-বড় অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি-ঝর্ণায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর প্রবল স্রোতের কারণে উপজেলার দুর্গম এলাকায় প্রায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল রোববার থেকে থানচি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সাঙ্গু নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি খাল ও ছড়ায় পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানান, তিন্দুর পর্যটন এলাকা ‘বড় পাথরে’ পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে যায়। তবে মাঝি আগেই পর্যটকদের নদী তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, রেমাক্রী এলাকায় এখন ২০ থেকে ৩০ জন পর্যটক রয়েছেন। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
থানচি পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা বলেন, রেমাক্রী খালের পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম এলাকায় প্রায় ৫০ জনের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা থানচিতে ফিরে আসবেন।
পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, `অতিবৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদী ও ছোট ছোট পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।'
পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক, গাইড এবং নৌযানচালকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ ও নৌকা চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।








