একটা ম্যাচ যে এত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কেপ ভার্দে আগের তিন ম্যাচ যতই ভালো খেলুক, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা লড়াই জমিয়ে তুলতে পারবে না বলে ধারণা ছিল অনেকের। কিন্তু তারা দেখিয়েছে-কীভাবে ম্যাচে বারবার ফিরে আসা যায়, কীভাবে নার্ভ ধরে রেখে লড়াই করতে হয়। সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির মতো এক মহাতারকার উপস্থিতি।
শুরুতে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও বোঝা যাচ্ছিল না ম্যাচের গতি কোনদিকে যাচ্ছে। কেপ ভার্দে দলগত ফুটবল খেলেছে। নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। দেশের জন্য খেলেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন নিবেদন দেখা সত্যিই আনন্দের। তবে সব কৃতিত্ব দিতে হয় কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে। তিনি যেন গোলবারের সামনে এক ‘চীনের প্রাচীর’। অসাধারণ রিফ্লেক্সে একের পর এক শট ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। বয়স ৪০ হলেও তার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা তাকে করেছে আরও পরিণত। অধিনায়ক হিসাবেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত নেতা। একাই দলকে বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছেন। ভোজিনিয়া না থাকলে এই ম্যাচ অনেক আগেই আর্জেন্টিনা জিতে যেতে পারত। কেপ ভার্দের রক্ষণভাগও খুব দৃঢ় ছিল না; কিন্তু অধিকাংশ শটই গিয়ে ঠেকেছে তার হাতে। ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে ফল ভিন্ন হতেও পারত।
আমার খেলোয়াড়ি জীবনে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছি অনেক কিছু। যা দেখতাম, সেসবই মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা করতাম। বারবার চেষ্টা করলে কোনো-না-কোনো সময় সফল হওয়া যায়। হেড হোক বা শট। ফুটবল আসলে এমনই-এখানে ধারাবাহিক অনুশীলনই সাফল্যের চাবিকাঠি।
এদিকে আজ ব্রাজিল ও নরওয়ে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি সমান-সমান হবে বলেই মনে করি। ব্রাজিলকে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নরওয়ে জিতলে সেটি অস্বাভাবিক কিছু হবে না। তারাও শক্তিশালী দল। মেক্সিকোর মাঠে নানা প্রতিকূলতা নিয়ে খেলবে ইংল্যান্ড। উচ্চতা, আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর দুর্দান্ত রেকর্ড, আর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এ মাঠেই ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বিতর্কিত গোলের দুঃস্মৃতি সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ কঠিন। তবু সব বিবেচনায় আমি ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখব।








