আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে টেকসই মানবাধিকার সুরক্ষা সম্ভব নয়। শনিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত ১২তম জাতীয় মানবাধিকার সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, বিচারবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন জেলার মানবাধিকার প্রতিনিধি এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বার্ষিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের।

বিশেষ অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন : ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার প্রশ্ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মো. নূর খান লিটন, সানজিদা ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি ও পুলিশের গুলিতে পা হারানো সাতক্ষীরার রুহুল আমিন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এইচআরএসএসর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম । দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনায় মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। এছাড়া সীমান্তে নিহত ফেলানি খাতুনের বাবা নুর ইসলাম ও নিহত মুরসালিনের বড় ভাই ইয়াসিন মিয়া অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি পর্বে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বাংলাদেশ অফিসের কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও গুম তদন্ত কমিশনের সাবেক সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বক্তৃতা করেন।