অনিয়ন্ত্রিত বাজার, শিক্ষার্থীদের অসচেতনতা এবং দায়বদ্ধতার অভাব বিদেশে উচ্চশিক্ষা সেক্টরে জালিয়াতি ও দুর্বৃত্তায়নের মূল কারণ। যা পূর্ববর্তী ঘটনা থেকে শিক্ষা না নেওয়ার ফলে বারবার নতুন নতুন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বিধ্বস্ত করছে। এ সংকট মোকাবিলায় কঠোর সার্টিফিকেশন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ এবং সরকার, দূতাবাস ও নৈতিক এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। শুধু আইন নয় বরং এর সঠিক প্রয়োগ ও সর্বস্তরের সচেতনতার মাধ্যমেই এই খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতি: কেন এত জালিয়াতি?

অনিয়ন্ত্রিত বাজার

বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষা সেক্টরে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। যে কেউ চাইলেই একটি এজেন্সি খুলে বসতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি দক্ষতা বা পেশাগত সার্টিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় এ খাতে প্রবেশ করেছেন অসংখ্য অনভিজ্ঞ ও অসাধু ব্যক্তি। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে ব্যাচেলর ডিগ্রিহীন ব্যক্তিরা যখন ভিসা অফার ও পিএইচডি অ্যাডমিশনের বিজ্ঞাপন দেন; তখন বোঝাই যায় খাতটি কতটা অনিয়ন্ত্রিত।

শিক্ষার্থীদের অসচেতনতা

অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত জানেন না। তারা সহজে কোনো এজেন্সির কথায় বিশ্বাস করে ফেলেন, যা প্রতারকদের সুযোগ করে দেয়। অফার লেটার কীভাবে ভেরিফাই করতে হয়, টিউশন ফি পাঠানোর সঠিক পদ্ধতি কী—এই মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞতাই তাদের প্রতারণার সহজ শিকারে পরিণত করে।

দায়বদ্ধতার অভাব

অনেক এজেন্সি টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া করতে গিয়ে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে, যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর ভিসা রিজেক্ট বা এমনকি ব্ল্যাকলিস্টের কারণ হয়। কিন্তু যখন জালিয়াতি ধরা পড়ে; তখন এজেন্সি পালিয়ে যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। সম্পত্তি ক্রোক বা আন্তর্জাতিকভাবে তাদের অপরাধের ইতিহাস প্রকাশের মতো উদ্যোগ না থাকায় তারা সহজেই অন্যত্র ব্যবসা শুরু করে দেয়।

আরও পড়ুন

স্কুলিং ভিসায় শিশুর সঙ্গে যেতে পারবেন বাবা-মাও

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: কেন আগের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না?

পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি

বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক এজেন্সিতে শিক্ষার্থীদের টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। পূর্বেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই ঘটনা বারবার ঘটছে? কেন পূর্ববর্তী ঘটনাগুলো থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছি না?

পূর্ববর্তী পদক্ষেপের অপ্রতুলতা

যদি সঠিক তদারকি ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হতো, যদি পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হতো এবং তারা যে দেশে পালিয়ে গেছে, সেই দেশের সরকারকে তাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানানো হতো—তাহলে এই দুর্বৃত্তায়ন অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু সেই কঠোরতার অভাবই বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে

সমাধান: প্রস্তাবিত কঠোর নীতিমালা ও কাঠামো

বর্তমানে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি এজেন্সিগুলোকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে একটি প্রস্তাবিত কাঠামো তুলে ধরা হলো:

বাধ্যতামূলক তিনটি মৌলিক সার্টিফিকেশন

প্রতিটি স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি এজেন্সির নিম্নলিখিত তিনটি সার্টিফিকেশন থাকা আবশ্যক। এই সার্টিফিকেশন না থাকলে তাদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স প্রদান করা হবে না—এই মর্মে সিটি কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সার্টিফিকেশন তিনটি হলো—
১. ট্রেড লাইসেন্স (এজেন্সির বৈধ বাণিজ্যিক পরিচয় নিশ্চিতকরণ),
২. এজেন্সি মালিকের ইংরেজি প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেট (আইএলটিএস, টোফেল, পিটিই, ডুওলিঙ্গো, ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট বা ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি—যাতে কথা বলা, লেখা, পড়া ও শোনা—চারটি দক্ষতায় সাবলীলতা নিশ্চিত হয়) এবং
৩. টিআইএন ও বার্ষিক ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই (শুরুতে টিআইএন ও প্রতি বছর নিয়মিত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণ)।

আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন (অন্তত একটি বাধ্যতামূলক)

এজেন্সিগুলোর নিচের অন্তত যে কোনো একটি আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন থাকা উচিত, যা তাদের দক্ষতা ও নৈতিকতা প্রমাণ করবে। যথা—
১. কিউইএসি (অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য, যা নৈতিক ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ার সর্বোত্তম অনুশীলন শেখায়),
২. ব্রিটিশ কাউন্সিল এজেন্ট ট্রেইনিং (যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য, যা ইউকে উচ্চশিক্ষায় মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করে),
৩. আইসিইএফ এজেন্সি স্ট্যাটাস (কানাডা বা আমেরিকার ভিসার জন্য, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলায় নৈতিকতার মানদণ্ড স্থাপন করে) এবং
৪. এআইআরসি সার্টিফিকেশন (শুধু আমেরিকার ভিসার জন্য, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভর্তির নৈতিক অনুশীলন নিশ্চিত করে)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বমূলক সার্টিফিকেট

এজেন্সি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করে, তাদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক সার্টিফিকেট থাকা উচিত। এটি প্রমাণ করে যে, এজেন্সিটি সেই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাদের বৈধ কোনো চুক্তি আছে কি না, যা শিক্ষার্থীদের ভুয়া অফার লেটার দেওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের বার্ষিক তালিকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা

প্রতি বছর এজেন্সির মাধ্যমে যতজন শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন, তাদের সম্পূর্ণ তালিকা (যে দেশে গেছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, ভিসা নম্বরসহ) সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। এটি শিক্ষার্থীদের গতিবিধি নিরীক্ষণ ও জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে এবং দেশ থেকে কতজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছেন, তার একটি সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি করবে।

আরও পড়ুন

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় পড়াশোনা-ক্যারিয়ার

সরকারের করণীয়: এখনই নিতে হবে যেসব পদক্ষেপ

ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট ও কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ প্রতিষ্ঠা

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট বা সংস্থা তৈরি করতে পারেনি। যা সঠিকভাবে বলতে পারে—কতজন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যান, কোন দেশে যান, কোন এজেন্সির মাধ্যমে যান ইত্যাদি। একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে শিক্ষার্থী ও এজেন্সি উভয়ের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কঠোর ও নবায়নযোগ্য করা

শুধু ব্যবসায়িক লাইসেন্স দেওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রতি বছর এজেন্সির কার্যক্রম যাচাই করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানকে চিরতরে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।

প্রতারকদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি

প্রতারক এজেন্সির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, তারা যে দেশে পালিয়েছে সেই দেশের সরকারকে তাদের অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, যাতে তারা অন্য কোনো দেশে গিয়েও এজেন্সি খুলতে না পারে।

ভালো এজেন্সিদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান

যেসব এজেন্সি নৈতিকভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে, তাদের সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া ও বার্ষিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। এটি ভালো কাজকে উৎসাহিত করবে এবং বাকি এজেন্সিগুলোর জন্য ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ

শিক্ষার্থীদের করণীয়: নিজেকে রক্ষার উপায়

টিউশন ফি কখনো এজেন্সিকে না দেওয়া

অফার লেটার পাওয়ার পর, অফার লেটারে উল্লেখিত টিউশন ফি আপনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকার ড্রাফটের মাধ্যমে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন। এরপর ব্যাংক আপনাকে যে রিসিপ্ট দেবে, তা শুধু জমা দেওয়ার জন্য এজেন্সিকে দিন। এজেন্সি শুধু ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করবে—টাকা নয়।

অফার লেটার ভেরিফাই করা

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অফার লেটারের সত্যতা যাচাই করুন। অফার লেটারে উল্লেখিত রোল নম্বর, আইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঠিকানা ব্যবহার করে সরাসরি অ্যাডমিশন অফিসে ই-মেইল করে লেটারটি আসল কি না নিশ্চিত হন।

প্রতিটি ডকুমেন্ট ভালোভাবে চেক করা

এজেন্সি অ্যাম্বাসিতে ফাইল জমা দেওয়ার জন্য যে কাগজপত্র তৈরি করে, সেগুলো অন্তত ৩-৪ দিন আগে এজেন্সি থেকে নিয়ে নিন। প্রতিটি ডকুমেন্ট মনোযোগ সহকারে চেক করুন। কোনো ভুল বানান, তারিখের গরমিল বা ফেক ডকুমেন্ট থাকলে এজেন্সিকে জানান ও দ্রুত সংশোধন করুন।

এজেন্সির সার্টিফিকেশন যাচাই করা

কোনো এজেন্সিতে যাওয়ার আগে তাদের ট্রেড লাইসেন্স, মালিকের ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন দেখতে চান। যদি তারা দেখাতে না পারেন বা এড়িয়ে যান, তবে সতর্ক হন এবং সেই এজেন্সি এড়িয়ে চলুন।

অনলাইন রিভিউ ও পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া

এজেন্সি সম্পর্কে আগের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইন ফোরামে তাদের রিভিউ দেখতে পারেন। কোনো এজেন্সি সম্পর্কে একাধিক নেতিবাচক অভিযোগ থাকলে সেখানে যাবেন না।

আরও পড়ুন

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কভার লেটারের গুরুত্ব

দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

দূতাবাসগুলোর সক্রিয়তা

বর্তমানে দেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তারা নিয়মিত জালিয়াতি ডকুমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।

শুধু দূতাবাসের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়

শুধু দূতাবাসের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; যারা স্টাডি অবরোড নিয়ে কাজ করছেন, তাদের আরও বেশি নৈতিক ও সচেতন হতে হবে। দূতাবাস যেমন সতর্ক করছে, তেমনই ভালো এজেন্সিগুলোকেও পাশাপাশি থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

আরও পড়ুন

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে যেসব দক্ষতা জরুরি

ভালো ও নৈতিক এজেন্সিগুলোর করণীয়

স্বচ্ছতা বজায় রাখা

শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিটি খরচ, প্রতিটি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে হবে। কোনো লুকানো ফি বা চার্জ রাখা যাবে না। এজেন্সি ফি কত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কত—তা আগেই স্পষ্ট করে বলা উচিত।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করা ও সচেতন করা

শুধু ভিসা করে দেওয়াই নয় বরং শিক্ষার্থীদের বিদেশের জীবন, পড়াশোনার পদ্ধতি, আইনকানুন, আবহাওয়া, খরচ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দিতে হবে। শিক্ষার্থী যেন নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেভাবে গাইড করতে হবে।

ভুয়া এজেন্সির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া

ভালো এজেন্সিগুলো একজোট হয়ে অসাধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নিজেদের মধ্যে একটি নৈতিক ফোরাম গঠন করে অসাধুদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

পেশাগত দক্ষতা নিয়মিত বাড়ানো

নিয়মিত আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন নবায়ন করতে হবে এবং নতুন নতুন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বের উচ্চশিক্ষার নিয়মকানুন ও ভিসানীতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাই নিজেদের সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আপডেট রাখতে হবে।

আরও পড়ুন

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় করণীয়

আমাদের করণীয়

স্টাডি অবরোড ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে সব ভালো এজেন্সি, সরকার, দূতাবাস ও শিক্ষার্থীদের একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; তার সঠিক প্রয়োগ ও মনিটরিংও জরুরি। এই দুর্বৃত্তায়ন ও জালিয়াতি রুখতে প্রয়োজন—কঠোর আইন ও নীতিমালা, কার্যকর তদারকি, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং নৈতিক এজেন্সিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

শিক্ষার্থীদের প্রতি শেষ কথা—আপনার ভবিষ্যৎ আপনার হাতে। সঠিক তথ্য জানুন, সতর্ক থাকুন এবং নিজের ডকুমেন্ট নিজে যাচাই করুন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে। আসুন, সবাই মিলে একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক স্টাডি অবরোড সংস্কৃতি গড়ে তুলি।

এসইউ