সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন-তারিখ বা তফসিল ঘোষণা না হলেও ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও এবার নির্বাচনে দলীয় কোনো প্রতীক থাকছে না, তবু দলীয় প্রার্থীরা নির্দলীয় এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে বিরামহীন প্রচারণা। পবিত্র ঈদুল আজহায় শুভেচ্ছা ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে চালিয়েছেন প্রচার-প্রচারণা।

এদিকে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের সুযোগ পেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে চালাচ্ছেন প্রচার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. মোরশেদ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবদুল জলিল ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. মনির, জামায়াতের একক প্রার্থী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাও. মো. এমরান। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমানত উল্ল্যাহ আলমগীর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মিয়া।

হাজিরহাট ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মেম্বার, যুবদল সহসভাপতি কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান। জামায়াতের একক প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম। আরও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা যুবলীগের সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক ইলিয়াস চৌধুরী।

উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক মো. আবদুর রহিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক যুবদল সম্পাদক মো. রাসেল ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. কবির। জামায়াতের একক প্রার্থী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আবদুর রহিম ও আওয়ামী লীগের মো. ইউসুফ ও সিদ্দিকুর রহমান।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. সিরাজ পালোয়ান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজেদুল ইসলাম শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার জামাল উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুর রহমান এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন রাঢ়ী। অপরদিকে জামায়াতের একক প্রার্থী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রটারি মাওলানা আবদুল হক আব্বাসী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাও. মোঃ ইলিয়াস। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল, যুবলীগ নেতা মো. কামাল উদ্দিন এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক মো. লিটন হায়দার।

কলাতলী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী। জামায়াতের একক প্রার্থী মাওলানা আবদুর রশিদ এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াত। মনপুরা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্পাদক মাওলানা মো. ইউনুচ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার কাজ চলমান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন মিয়া জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত দিলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবেন প্রার্থীরা। মনপুরা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর বলেন, একাধিক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। তিনি আরও জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।