বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আজ সোমবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগ তারা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব পরীক্ষার্থী তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এলাকার আওতাধীন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অপ্রত্যাশিতভাবে আজ (১৩ জুলাই) সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বলছে, ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা শিক্ষাপঞ্জি (ক্যালেন্ডার) ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিসি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।

ব্যাখ্যায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত

পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড অবগত হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যালোচনায় যদি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। তারা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সূচিতেই হবে