তিনতলা ভবনের একটি কামরায় থাকতেন কোয়েল চৌধুরী (৪০)। মা-বাবা-ভাইয়ের মৃত্যুর পর পৈতৃক ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবক। একমাত্র বোন বিয়ের পর থাকেন কানাডায়। মায়ের মৃত্যুর পর তার খাবার ও ওষুধ সেবন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

রোববার ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর মহল্লার চৌধুরী ভিলা নামের ওই তিনতলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে অচেতন অবস্থায় কোয়েলকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবর তার কানাডাপ্রবাসী বোন ও স্বজনদের স্থানীয়রা জানালেও কেউ আসেননি। পরে স্থানীয়রা শহরের আলীপুর কবরস্থানে তার লাশ সমাহিত করেন।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বখাবাসপুর মহল্লায় বারী জামালের তিনতলা এই বাড়িটি ২০০০ সালে কেনেন হাসমত চৌধুরী ও আছিয়া চৌধুরী নামের সরকারি চাকরিজীবী দম্পতি। পরে এর নাম দেওয়া হয় চৌধুরী ভিলা। বাড়িটি কেনার কিছুদিন পর মারা যান হাসমত চৌধুরী। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয় এক কানাডাপ্রবাসীর সঙ্গে। এরপর বাড়িটিতে বসবাস করতেন আছিয়া ও তার দুই ছেলে। ওই দুই ছেলেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের মানসিক অসুস্থতা আরও বাড়ে। মায়ের ইচ্ছায় বাবু চৌধুরী বিয়ে করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে স্ত্রী কয়েকদিন পর চলে যান তাকে ছেড়ে। এর কয়েক বছর পর মা আছিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর দুই ভাই অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। দুই ভাইয়ের খাবার ও ওষুধ সেবন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। শারীরিক অবনতি হতে থাকে দুই ভাইয়ের। দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কোয়েল একেবারে ভেঙে পড়েন। তাদের তিনতলা বাড়ির ভাড়াটিয়াদের দেওয়া খাবার খেয়ে কোনোমতে চলছিল তার দিন। কক্ষ থেকে তেমন একটা বের হতেন না।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে রুমের দরজা বন্ধ দেখে ভাড়াটিয়ারা ডাকাডাকি করে সাড়াশব্দ না পেয়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন।

প্রতিবেশী লিঙ্কন বলেন, চিল্লাচিল্লি শুনে এসে দেখি পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে কোয়েলকে উদ্ধার করেছে। তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরেক প্রতিবেশী মো. নাসির বলেন, বাবা-মা ও এক ভাই মারা যাওয়ার পর অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন কোয়েল। বাসা থেকে তেমন বের হতেন না। খেয়ে না খেয়ে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী কোয়েল চৌধুরী। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারাত্মক অসুস্থ যুবক কোয়েল চৌধুরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।