রাজধানীতে পৃথক অভিযানে অস্ত্র-ইয়াবা-এস্কাফ সিরাপসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ সোমবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. জয়নাল (৪২), মো. সামিউল হক (৪৩), নুর ইসলাম সুরুজ (৪৪), মো. হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়া (৪৫), সোহান চৌধুরী (৩০), মো. রবিউল ইসলাম মুন্না (২৪) এবং মো. কাশেম (৩৫)। তাঁদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫টি লিড বল কার্তুজ, ১ হাজার ৭৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ (মাদক), দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক যানবাহন জব্দ করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ সোমবার ভোরে ডিবির মিরপুর বিভাগ দারুস সালাম থানার গাবতলী ব্রিজ এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এ সময় অস্ত্র ও মাদক বহনকারী দুটি প্রাইভেটকার রাজধানীতে প্রবেশের সময় একটি গাড়ি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে চালক মো. জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি তল্লাশি করে দুটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫টি লিড বল কার্তুজ এবং ১০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে অপর প্রাইভেটকার থেকে আরও ৪৫০ বোতল এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ রাজধানীতে এনে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করছিল। তারা অস্ত্রবাহী এস্কর্ট গাড়ি ব্যবহার করত। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অস্ত্র আইনে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর বিডিআর বাজার ও সমবায় মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ সামিউল হক, নুর ইসলাম সুরুজ ও হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে ডিবির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম কাফরুল থানার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ইয়াবাসহ সোহান চৌধুরী, রবিউল ইসলাম মুন্না ও মো. কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এক্স নোয়া মডেলের গাড়িও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী পার্সেলের আড়ালে ইয়াবা ঢাকায় এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার সোহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাফরুল ও খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।