নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার শেষ বাঁশি বাজতেই ৫,৭০০ কিলোমিটার দূরে স্পেনে শুরু হয়ে যায় ‘ফিয়েস্তা’। স্প্যানিশদের কাছে এই শব্দ শুধু উৎসব নয়’ জীবন উদযাপনেরও আরেক নাম। সেই উৎসব ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্পেনে। নিউজার্সিতে অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার ফুটবল বিশ্বকাপ জেতার পর আনন্দে ভাসছে দেশটি। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ভূমধ্যসাগর-তীরের ছোট শহর কাস্তেল দেফেলস সবখানেই বিজয়োল্লাস। গান, বাজনা, আতশবাজি আর লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস। তবে আনন্দোৎসবের মাঝেও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। উদযাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে প্রাণ হারায় ১৩ বছর বয়সি এক কিশোর।
ফাইনালে ফেরান তোরেসের ১০৬ মিনিটের একমাত্র গোলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব জয় করে ‘লা রোহারা’। ২০১০-র পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট ওঠে স্পেনের মাথায়। ম্যাচে একমাত্র গোল হওয়ার পর স্পেনে যেন আনন্দের ভূমিকম্প শুরু হয়। আর শেষ বাঁশি বাজতেই রাজধানী মাদ্রিদে শুরু হয় নজিরবিহীন উদ্যাপন। রাজপথে নেমে আসে লাখো মানুষ। কিংবদন্তি ব্যান্ড কুইনের ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন্স’ গান বেজে ওঠে। আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে রাতের আকাশ। গাড়ির হর্ন, ভুভুজেলার শব্দ আর ‘কাম্পেওনেস! কাম্পেওনেস!’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর। উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে আকাশপথেও। মাদ্রিদে অবতরণের পর একটি আইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের পাইলট যাত্রীদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, ‘ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়, আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!’ রাজধানীর কেন্দ্রে বিশাল পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো জয়েছিলেন হাজারো মানুষ। জাতীয় দলের জার্সি, হাতে স্পেনের পতাকা, মুখে লাল-হলুদের রং-সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে রাতভর ঘুমহীন ছিল মাদ্রিদ।




