বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে উদ্বেগ তৈরি করেছে নিউজার্সির বায়ুদূষণ। কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় এই অঞ্চলের বাতাসের মান এতটাই খারাপ হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
নিউজার্সির বায়ুদূষণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) সাবেক কর্মকর্তা ও দূষণ বিশেষজ্ঞ মাইকেল পেট্রোনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘এখন নিউইয়র্ক সিটির বাতাসে পুরো দিন শ্বাস নিলে তা প্রায় ১০টি সিগারেট টানার সমতুল্য—এ কথা বলাটা যুক্তিসংগত।’
কোনো মনগড়া কথা নয়, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই হিসেব করা হয়েছে বলে জানালেন পেট্রোনি, ‘সাধারণ নিয়ম হলো, একটি পুরো দিনে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে প্রতি ২০ পয়েন্ট দূষণ একটি সিগারেটের সমান। বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব জমতে থাকে, যা ক্যানসার ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।’
বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্বকাপ ফাইনাল—বিরতি, সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময় ও পুরস্কার বিতরণীসহ—প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হলে, সেই সময় স্টেডিয়ামে অবস্থান করা প্রায় আড়াইটি সিগারেট টানার সমপরিমাণ ক্ষতি হতে পারে।
এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কানাডা ও গ্রেট লেকস অঞ্চলে চলমান দাবানল। এর ধোঁয়ায় নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির আকাশ ধূসর হয়ে গেছে, দৃশ্যমানতা কমেছে, সূর্যকে লালচে দেখা যাচ্ছে এবং বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ নিউইয়র্কের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের মানদণ্ড অনুযায়ী ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকা বায়ুর মানকে ভালো ধরা হয়।
বায়ুদূষণের হলেও এখন পর্যন্ত ফাইনাল স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ধোঁয়া ছড়িয়ে দিয়ে বায়ুর মান উন্নত করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচটি আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার প্রতিনিধিরা ফিফার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুখবর হলো, সবকিছু ঠিক থাকলে রোববারের মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলে মনে হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এটি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। শেষ পর্যন্ত আমরা শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের জন্যও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’








