ফিফা বিশ্বকাপ শুধু মাঠের উত্তেজনাই বাড়ায়নি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি বড় খাতেও এনেছে ইতিবাচক প্রভাব। টুর্নামেন্ট চলাকালে দেশটির বার, রেস্তোরাঁ ও স্টেডিয়ামগুলোতে বিয়ারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আয়োজক শহরগুলোতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিয়ার বিক্রি বেড়েছে ১৪ শতাংশ, আর সারা দেশে এই বৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিয়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিয়ার ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং বার-রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খেলা দেখার সংস্কৃতিই এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়ার মতো আয়োজক শহরগুলোর অনেক বারকে অতিরিক্ত বিয়ারের চালান আনতে হয়েছে, যাতে ব্যস্ত ম্যাচের দিনগুলোতে সরবরাহ সংকট না হয়। ন্যাশনাল বিয়ার হোলসেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনবিডব্লিউএ) জানায়, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এই প্রবণতা দেখা গেছে এবং পুরো মাসজুড়েই তা অব্যাহত ছিল।

ফিলাডেলফিয়ায় প্রথম ছয়টি ম্যাচে স্টেডিয়ামগুলোতে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার গ্লাস বিয়ার বিক্রি হয়েছে, যা সাধারণ ক্রীড়া আসরের তুলনায় অনেক বেশি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে অন্য আয়োজক শহরগুলোতেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে বিয়ার পান ধীরে ধীরে কমছিল। অ্যালকোহলমুক্ত ও কম-ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে বাজারে পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসব সেই প্রবণতায় সাময়িক পরিবর্তন এনেছে।

বিয়ার ইনস্টিটিউট এবং এনবিডব্লিউএ-এর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকদের মিলনমেলা, বার ও রেস্তোরাঁয় দলবেঁধে খেলা দেখা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিয়ারের চাহিদা বাড়িয়েছে।

এনবিডব্লিউএ-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ক্রেইগ পার্সার বলেন, ‘মানুষ যখন দলবেঁধে খেলাধুলা দেখতে একত্রিত হয়, তখন বিয়ার পানও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।’

বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় বড় ব্র্যান্ডও ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এবি এনবেভ (বাডওয়াইজার ও মাইকেলব আল্ট্রার নির্মাতা) বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই লাখ প্রচারমূলক আয়োজন করে। অন্যদিকে মলসন কুর্স আগের বছরের তুলনায় তাদের বিজ্ঞাপন ব্যয় ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ সংস্করণের পণ্য বাজারে আনে।

বস্টন বিয়ার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জিম কখ জানান, স্কটল্যান্ডের ম্যাচগুলোর সময় বোস্টনের স্যাম অ্যাডামস বস্টনে এত বেশি ভিড় হয়েছিল যে, ‘এক পর্যায়ে প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি করে বিয়ার পরিবেশন করা হচ্ছিল।’

তবে মেক্সিকো ও ব্রাজিলের মতো জনপ্রিয় দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাদের সমর্থকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় কিছু বার ও রেস্তোরাঁয় বিয়ারের বিক্রিও কিছুটা কমে যায়। এমনকি করোনা ও মডেলো ব্র্যান্ডের মালিক কনস্টেলেশন ব্র্যান্ডস এবং এবি ইনদেভ-এর শেয়ারদরেও সাময়িক প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শেষ হলে বাজার আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। তবে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পানীয় শিল্পের জন্য আবারও বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আরআর/আইএন