মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পপ সুপারস্টার টেইলর সুইফটের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই টানাপোড়েনের। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধ, দুপক্ষের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে এবার আলোচনায় এক ভিন্ন ঘটনা। টেইলর সুইফটের বহুল আলোচিত বিয়ের রাতেও তাকে ব্যঙ্গ করতে ভোলেনি হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হয় টেইলর সুইফট ও এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান। সংগীত, তারকা সমাবেশ এবং বিপুল আয়োজনের কারণে অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্ত সেই উৎসবমুখর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুইফটকে ঘিরে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি মিম প্রকাশ করা হয়। সেখানে সুইফট ও কেলসের বিয়েকে কেন্দ্র করে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রদর্শিত ডিজিটাল বিলবোর্ডের আদলে একটি ছবি তৈরি করে লেখা হয়, ‘ট্রাম্প ইজ ইউর প্রেসিডেন্ট’। এর আগে ‘আমেরিকা’স ইরাস ট্যুর’ শিরোনামে আরেকটি পোস্টে সুইফটের বিশ্বখ্যাত ‘ইরাস ট্যুর’-এর নকশা ও ভাষা ব্যবহার করে আরেকটি মিম প্রকাশ করা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় ছুটির সপ্তাহান্তে আয়োজিত সুইফটের এ বিশাল অনুষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টি এড়ায়নি। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে নিজের পরিকল্পিত কিছু আয়োজন কাক্সিক্ষত সাড়া না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সুইফটের তারকাবহুল অনুষ্ঠান আরও বেশি আলোচনায় চলে আসে।
ট্রাম্পের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর। হলিউডের অনেক উদারপন্থি তারকাকে তিনি প্রকাশ্যে আক্রমণ করলেও টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে সবসময় কিছুটা হিসাব করে এগোতে দেখা গেছে। কারণ, সুইফট শুধু একজন গায়িকা নন; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একজন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নির্বাচনি সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
অবশ্য ট্রাম্প ও টেইলরের বিরোধ নতুন নয়। ২০২০ সালে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় সুইফট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সিজুড়ে বর্ণবাদ ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে উসকে দিয়েছেন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্পের সমর্থনে তৈরি একটি ডিপফেক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সুইফট প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন। এর জবাবে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আই হেইট টেইলর সুইফট’।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে দেখা যায়নি সুইফটকে। বিয়ের আয়োজনেও ছিল তারকা আর সংগীতের ঝলক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্টিভি নিকস ও পল ম্যাককার্টনির মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে অনেকেই বছরের সবচেয়ে বড় সেলেব্রিটি ইভেন্ট হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
মজার বিষয় হলো, এমন বিশাল আয়োজন, সংগীতনির্ভর মঞ্চ এবং বিপুল দর্শক আগ্রহ, এসবই এমন উপাদান, যা সাধারণত ট্রাম্প নিজেও পছন্দ করেন। তাই অনেকের ধারণা, অনুষ্ঠানটির আড়ম্বর নয়, বরং এর কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের অনুপস্থিতিই হয়তো তাকে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে।
যে কারণেই হোক, টেইলর সুইফটের বিয়ের রাতেও তাকে নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে পারেননি ট্রাম্প। কিন্তু সব কটাক্ষ ও ব্যাঙ্গকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রেই ছিলেন সুইফট, নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদযাপন করতে ব্যস্ত, আর বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের নজর ছিল তার দিকেই।








