নেইমার না আর্লিং হলান্ড? ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাকি আন্তোনিও নুসা? ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে পার্থক্য গড়বেন কে? নাকি দুই দলের কোচই তাঁদের কৌশল দিয়েই ম্যাচের ভাগ্য লিখবেন। শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ের আগে দেখে নেওয়া যাক কোন ৫টি বিষয় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ দিতে পারে।
ব্রাজিলের মনে ‘নরওয়েজিয়ান জুজু’র মনস্তাত্ত্বিক চাপ
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত ৮৮টি দেশের সঙ্গে খেলেছে। এর মধ্যে শুধু নরওয়েকেই তারা হারাতে পারেনি। এই দুই দলের চারবারের দেখায়, দুবার জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। হারা ম্যাচের মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও আছে।
এমন পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলকে কিছুটা হলেও চাপে রাখবে। এই অদৃশ্য মানসিক চাপ ভাঙাই হবে সেলেসাওদের প্রথম চ্যালেঞ্জ।
হলান্ড বনাম ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সের দ্বৈরথ
সর্বশেষ ১৩ ম্যাচেই নরওয়ের হয়ে গোল করেছেন। এই সময়ে সব মিলিয়ে গোল করেছেন ২৫টি। চলতি বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল।
সর্বশেষ আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচেও পেয়েছেন গোল। নরওয়ের এই ‘গোলমেশিনকে’ থামানোর গুরুদায়িত্ব থাকবে ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের ওপর।

গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, মার্কিনিওসরা এই দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হলান্ডকে সামলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ কতটা ভালো করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়। হলান্ড সুযোগ পেয়ে গেলে ব্রাজিলের কপালে শনি নিশ্চিত!
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফর্ম ও উইংয়ের ঝড়
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আসল কান্ডারি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বর্তমানে তিনি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। উইং ধরে তাঁর ড্রিবলিং আর গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে উড়িয়ে দিতে পারে।
নরওয়ের ডিফেন্স গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের কাছে ৪ গোল খেয়েছে। ভিনির সৃজনশীলতা আর ফিনিশিংয়ের সামনে তাদের পুরো ৯০ মিনিট কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে নরওয়ে ডিফেন্ডারদের লড়াই ম্যাচের ভাগ্য লিখতে পারে।
যে কারণে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনিদ্বিতীয়ার্ধের ‘লেট ড্রামা’ ও গোলের ট্রেন্ড
এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেশির ভাগ গোল এসেছে ৩০তম মিনিটের পর। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তারা বেশি ভালো খেলে। অন্যদিকে নরওয়ের ম্যাচ মানেই ৮৫ মিনিটের পরের নাটকীয়তা। সর্বশেষ ম্যাচে তারা গোল করেছিল ৮৬ মিনিটে। তাই রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বলা অসম্ভব। এই শেষ মুহূর্তের স্নায়ুযুদ্ধে যারা মাথা ঠান্ডা রাখবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে।
স্তালে সলবাকেনের ট্যাকটিক্যাল ব্যালেন্স বনাম ব্রাজিলের অল-আউট অ্যাটাক
কোচ স্তালে সলবাকেনের অধীন নরওয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ব্রাজিলের বিপক্ষেও কি এভাবেই খেলবে তারা? ফল পেতে হলে নরওয়েকে তাদের চেনা আক্রমণাত্মক ধার ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণও সামলাতে হবে। আক্রমণে ধার রেখে রক্ষণ সামলানোর এই ট্যাকটিক্যাল ব্যালেন্সই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
ইউরোপিয়ান ‘ভূত’ তাড়াতে পারবে তো ব্রাজিল







