গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এলজিইডি নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণ মান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ইঁদুরের গর্ত ও সড়কের নিচে বালুমাটি থাকার কারণে টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। বিষয়টি সিম্পল।
স্থানীয়দের দাবি, ধসের বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
আরও পড়ুন
খুলনায় শিপইয়ার্ড সড়কে ১৪ বছরের ভোগান্তি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯২৫ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও চিলমারী উপজেলার সংযোগ সড়কে নির্মিত হয়েছে এই মওলানা ভাসানী সেতু।
স্থানীয় মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই সেতু ও সড়ক নির্মাণে। দুই তিনদিনের বৃষ্টির পানির আঘাতেই যদি সেই সড়ক ধসে যায়, তাহলে তারা কী কাজ করেছে? এ ধস দেখার পর থেকে আমাদের ভীষণ ভয় হচ্ছে।
দর্শনার্থী মোছা. ফরিদা পারভীন বলেন, সেতুর পাশেই এ ধরনের গর্ত। বিষয়টি দর্শনার্থীদের জন্য ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে থাকেন। বছর পার হতে না হতেই এ ধরনের গর্ত নির্মাণ কাজে কোনো গাফিলতির কারণে হতে পারে।
আরেক দর্শনার্থী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি সেতু দেখতে। শুনেছি বহু টাকা ব্যয় হয়েছে এ সেতু নির্মাণে। সময়ও লেগেছে কয়েক বছর। বৃষ্টির পানিতেই যদি সেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যায় তাহলে কী কাজ করেছেন তারা?
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির পানিতেই গর্ত তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকা গর্তটি দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন
৬৫ লাখ টাকার সড়ক টিকলো এক সপ্তাহ
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এটিএম ইঞ্জিনিয়ার মাজেদ আজাদ বলেন, ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ চলছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়, আর্চ ব্রিজের সংযোগ সড়কের দু’ধারে পানি নামার ড্রেন স্থাপন না করা পর্যন্ত এ সমস্যা লেগেই থাকবে। বিষয়টি শুরুতেও বলেছিলাম।
সড়ক পাকাকরণের কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তের শহরের মোড় নামক স্থানে সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দেখেছি। ঠিকাদারকে বলাও হয়েছে।
তিনি বলেন, যেকোনো সড়ক ভেঙে যায় বৃষ্টির পানিতে। আর এখানে নদী ভরাট করে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কাজেই এটা স্বাভাবিক বিষয়।
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি দেখেছি। খুব শিগগিরই স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করা হবে।
আরও পড়ুন
৩ বছরেও সংযোগ সড়ক পায়নি ১৫ কোটি টাকার মডেল মসজিদ
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজে কোনো গাফিলতি হয়নি। ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের নিচে বালুমাটি থাকার কারণে টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। বিষয়টি সিম্পল। গতকাল থেকেই লেবার দিয়ে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এএসএম








