হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় প্রকাশ রেলী (২৬) নামের এক চা–শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া চা–বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রকাশ রেলী নোয়াপাড়া চা–বাগানের বাসিন্দা চম্পক রেলীর ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, ঋণের চাপ ও সুদ কারবারিদের হয়রানিতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে কয়েকজন শ্রমিক চা–বাগানে কাজ করতে গিয়ে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রকাশের মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রকাশের ভাই সুবল রেলী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অভাব-অনটনের কারণে তাঁর ভাই স্থানীয় কয়েকজন সুদ কারবারির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। শুরুতে নিয়মিত সুদ পরিশোধ করলেও পরে চড়া সুদের বোঝা সামলাতে না পেরে বিপাকে পড়েন।

সুবল রেলীর দাবি, পাওনাদারদের চাপ ও হুমকিতে প্রকাশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই চাপই তাঁকে আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

চা–শ্রমিকদের স্বল্প আয়ের সুযোগ নিয়ে সুদ কারবারিরা উচ্চ সুদে টাকা ধার দেন বলে জানান স্থানীয় নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বাবুল রেলী। তিনি বলেন, বিয়ে, চিকিৎসা বা প্রসূতি মায়ের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে এসব ঋণ নেন। পরে চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। অনেকেই ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে বাগান ছেড়ে চলে গেছেন। প্রকাশ রেলীর ঘটনাও সেই বাস্তবতার একটি করুণ উদাহরণ।

একই অভিযোগ করেন নোয়াপাড়ার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল। তিনি বলেন, চা–বাগানে সুদ কারবারিদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক। সহজ-সরল শ্রমিকদের লক্ষ্য করে তাঁরা উচ্চ সুদে ঋণ দিয়ে পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি অবৈধ সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।