চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে অপহৃত ১৫ মাস বয়সী শিশু নাজেহাদকে উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই বাদী মোহাম্মদ সোহেল রানার শালিকা রিমির তিন দিনের নবজাতক কন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। নবজাতকের মা প্রসবজনিত জটিলতায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।রাতের বেলায় হাসপাতালের ৫ম তলার ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি বিভাগের বারান্দায় বাদীর শাশুড়ি ১৫ মাস বয়সী শিশু নাজেহাদকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে বাদীর স্ত্রী তসলিমা জান্নাত নীলা নবজাতকের সঙ্গে এনআইসিইউতে অবস্থান করছিলেন।পরদিন ১০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী নিজেকে বাদীর স্ত্রীর বান্ধবী পরিচয় দিয়ে শিশু নাজেহাদের কাছে আসেন। একপর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে ওই নারী দোকান থেকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোলে নিয়ে চলে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।খবর পেয়ে বাদী দ্রুত হাসপাতালে এসে সম্ভাব্য সব স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটিকে না পেয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ মডেল থানায় ১১ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।মামলার পর পাঁচলাইশ মডেল থানার একটি তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে অভিযুক্ত নাছিমা বেগম (২৫) ও বোরহান উদ্দীনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু নাজেহাদকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।পরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।