চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সোমবার (১৩ জুলাই) তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে সৌদির চালানো হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

২০২২ মার্চ মাসে হুতিরা সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর এই প্রথম সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো হামলার দায় স্বীকার করলো হুতিরা। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুতি গোষ্ঠী অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে ও তারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে। হুতিরা সোমবারের (১৩ জুলাই) এই হামলাকে নগ্ন আগ্রাসন বলে অভিহিত করে বলে, এর মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো।

হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণের পার্বত্য অঞ্চলের প্রাদেশিক রাজধানী আবহা’র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটিতে অনেক সৌদি নাগরিক গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে বেড়াতে যান।

তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, হুতিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব মাঝআকাশেই প্রতিহত করেছে।

এদিকে, সোমবারের (১৩ জুলাই) এই সহিংসতার ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত এপ্রিলে ইরান যুদ্ধে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমে এসেছিল।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য ছোট দেশের তুলনায় সৌদি আরব আয়তনে অনেক বড় হওয়ায় যুদ্ধের মধ্যেও তারা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তারা দেশের পূর্ব থেকে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলেও অতীতে হামলা চালানো হুতিদের সঙ্গে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে এই তেল রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ