বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারত থেকে নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পরিচয় দেওয়া ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মহারাজগঞ্জ জেলার সোনৌলি সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)। আটক ব্যক্তি নিজের নাম জর্ডান ব্রাউন বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ও মার্কিন নৌবাহিনীর (ইউএস নেভি) সাবেক কর্মকর্তা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ জানায়—গত রোববার সোনৌলি থানার আওতাধীন মৈনিহওয়া এলাকার সীমান্ত ৫১৬ নম্বর পিলারের কাছে নিয়মিত টহল চলাকালে এসএসবির ২২ তম ব্যাটালিয়ন ব্রাউনকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে দেখে তাঁকে থামার সংকেত দেয়। তবে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় ব্রাউনের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পরিচয়পত্র ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন পুলিশকে জানান, তিনি পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথেই ভারতে প্রবেশ করেন। ভারতে আসার পর থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরে গোয়া থেকে তিনি বেঙ্গালুরু যান এবং সেখান থেকে উত্তর প্রদেশের সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই নেপালে প্রবেশ করা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ বলেন, কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পরিচয়ের প্রমাণ ছাড়াই নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়েছে।

তল্লাশির সময় ব্রাউনের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে তিনি পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি দেখাতে পারেননি। এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, এসএসবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ব্রাউনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য তাঁকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের সোনৌলি থানার কাছে হস্তান্তর করেছে।

পুলিশ বর্তমানে ব্রাউনের দেওয়া সব দাবির সত্যতা যাচাই করছে। একই সঙ্গে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ ও ২৩ ধারায় সোনৌলি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে, পৃথক এক ঘটনায় মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং এক মার্কিন নাগরিককে ৩ জুলাই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)।

এনআইএর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করার পর মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে যান। সেখানে তাঁরা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তদন্ত সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা এসব গোষ্ঠীকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় এনআইএর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।