চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অফিসে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিএমপি।সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অফিসে হামলা চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ড্রয়ারের নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও পরিচালকের কাঁধের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়।গত ১১ জুলাই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) স্বত্বাধিকারীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজরা। একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি এবং পরবর্তীতে মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন হুমকি দেয়।গত ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানাধীন বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের অফিসে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। তারা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গার মেশিন, আসবাবপত্র ও গ্লাসের দরজা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।গ্রেপ্তার আরও দুজন।এছাড়া সন্ত্রাসীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল।ওই ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হলে সিএমপির একাধিক চৌকশ টিম, চকবাজার থানা ও র‌্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে রাতব্যাপী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদক, ছিনতাইয়ের ৫টি মামলার আসামি মো. ইউনুস (৪১), চাঁদাবাজি, মারামারি, চোরাচালানের ১২টি মামলার আসামি ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস দমনের ৬টি মামলার আসামি আকবর হোসেন (২৪), বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদকের ৬টি মামলার আসামি মো. সুমন (২৭), অস্ত্র, মাদকের ৭টি মামলার আসামিসংবাদ সম্মেলনমো. মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮), ডাকাতি, চুরির ৮টি মামলার আসামি মো. নয়ন (২০), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১) ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ প্রকাশ ফরহাদ (২৮)। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।