চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সব আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বন্যায় জেলার ৯ হাজার ২০৮টি বসতঘর আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন।

বন্যা চলাকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সব মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য, ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। মানুষকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপের কামড় থেকে সতর্ক থাকা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।