চট্টগ্রামের সদরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে ‘এমভি দেশ’ নামে একটি ফিশিং জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন ‘এফভি দেশ’ ফিশিং জাহাজের গ্রিজার (কারিগরি কর্মী) রুবেল (৩২) ও ডেককর্মী শাহ আলম (৪৫)। রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এবং শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

আজ বুধবার জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথেই দুজন মারা যান। পরে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট সাম্পানঘাট সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের ফিশিং জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জাহাজটিসহ পাশে ‘ডিজনি’ নামে আরেকটি ফিশিং জাহাজের মোট ছয়জন দগ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

দগ্ধ অন্যরা হলেন ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিম (২২), উইঞ্চ অপারেটর নিজাম উদ্দিন (৩৫), ডুবুরি রাসেল (৩০) এবং নাবিক ছিদ্দিক আহমেদ (৫০)।

‘এফভি দেশ’ জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, বর্তমানে ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিম ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য তিনজন—নিজাম উদ্দিন, রাসেল এবং ছিদ্দিক আহমেদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, তিনজনের শরীরই প্রায় ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

সাগর থেকে মাছ ধরা শেষে সোমবার দুপুরে জাহাজটি কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটরের বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।