রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন জানান, মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও একই পরিমাণ অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় সাহেদ কারাগারে থাকলেও তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ৪ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু সাহেদকে এ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাই নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন

ফের গ্রেফতার রিজেন্টের সাহেদ

ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান জানান, পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পল্লবী থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, অর্থঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের পরোয়ানা থাকায় সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ২০২০ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ ও জালিয়াতির প্রমাণ জব্দ করে র‌্যাব। ওই সময় হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ছিলেন মো. সাহেদ। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে তারসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ঘটনার কয়েকদিন পর সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে প্রতারণা, অস্ত্র, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা হয়।

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের এক মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় পৃথক সাজা হলেও পরবর্তীসময়ে তিনি সবগুলো মামলায় জামিন লাভ করেন। প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এমডিএএ/এমআইএইচএস/