আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি দ্বীপ নিয়ে ছোট্ট একটি দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজারের কিছু বেশি। বয়সে বাংলাদেশের চেয়েও ছোট। ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া সেই খুদে দ্বীপরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল নকআউট পর্বে উঠে। শেষ বত্রিশে এখন তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু সে আরেক গল্প।

কেপ ভার্দের এই কীর্তিকে ‘সিন্ধুতে বিন্দুর টিপ’ বলাই যায়। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ তো এক মহাসমুদ্রই। তাতে হাবুডুবু খাওয়ার কথা ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দেশের। কেন? কারণ, বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাদের সুযোগ ধরা হয়েছিল মাত্র ১ শতাংশ। এজন্যই নকআউট-পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা ‘এক শতাংশ, এক শতাংশ, এক শতাংশ’ স্লোগান দিয়ে উদ্যাপন করেন। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা মোবাইল ফোনে স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের ফল দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ওই ম্যাচে স্পেন জিততেই এইচ-গ্রুপের রানার্সআপ হিসাবে নিশ্চিত হয় কেপ ভার্দের নকআউট-পর্ব।

হিউস্টনে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ধারাভাষ্যকার রব ল’র কণ্ঠে ভেসে আসে, ‘কেপ ভার্দের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের চোখে গর্ব ও আনন্দের অশ্রু। সুন্দর মুহূর্ত। সবাই অপেক্ষায় শেষ বাঁশির। স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে, গ্যালিারিতে যেন অশ্রুর বৃষ্টি হলো।’ ল যোগ করলেন, ‘হোয়াট আ মোমেন্ট।’ ছোট্ট একটু আশা নিয়ে বিশ্বকাপে আসা কেপ ভার্দে হয়তো চেয়েছিল একটি খোলা জানালা। তাদের সামনে খুলে গেল বিশাল দরজা। চল্লিশে চালশে-কথাটা ভুল প্রমাণ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া নায়ক। যেমন তিন কাঠির নিচে দুবারের বিশ্বজয়ী উরুগুয়েকে ২-২ গোলে রুখে দেওয়া ম্যাচেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন চীনের প্রাচীর।

স্পেনের সাবেক বিশ্বজয়ী হুয়াল মাতাও উচ্ছ্বাস লুকানোর চেষ্টা করেননি-‘ওরা যা করছে, এককথায় তা অবিশ্বাস্য। শুধু স্পেনকে রুখেই ওদের অশ্বারোহী কেপ ভার্দে থামেনি। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে জয়বঞ্চিত করা তাদের এক দুঃসাহসিক রোমাঞ্চ।’

‘ব্লু শার্কস’ বা নীল হাঙর নামে খ্যাত কেপ ভার্দের অভিষেক বিশ্বকাপে এমন অত্যাশ্চর্যজনক ফলের নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবাধে সুযোগ দেওয়া। তাদের বিশ্বকাপ দলের ২৬ জন ফুটবলারের মধ্যে ১৪ জনের জন্ম বিদেশে। কৃতিত্বের একটা বড় ভাগ ৫৬ বছর বয়সি কোচ বুবিস্তারও প্রাপ্য। এই সাবেক সেন্টার-ব্যাক দলকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছেন। বর্ষীয়ান গোলরক্ষক ভোজিনিয়াও প্রশংসা দাবি করতে পারেন। স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে তার অবিশ্বাস্য সাতটি সেভ কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রার সূচনা করে।