বিশ্বের নানা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের পদ ও পদোন্নতি কাঠামোয় কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও মোটামুটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদটি রয়েছে।

বিশ্বের কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদটি না থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের যাত্রা শুরু হয় মূলত প্রভাষক হিসেবে।

শিক্ষকতায় অভিজ্ঞতা ও গবেষণা বিবেচনায় প্রভাষক থেকে সহকারী, সহযোগী ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়। তবে দেশের বাইরে অধ্যাপকের পর ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তবে অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর মূলত সেই শিক্ষকের সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের গুরুত্ব বিবেচনায় সম্মানসূচক ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হিসেবে স্বীকৃতির দেওয়া হয়, যাতে ওই অবসর নেওয়া অধ্যাপক শিক্ষা ও গবেষণা চালু রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সংযুক্ত থাকার নানা সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এসব সুযোগ-সুবিধা মোটাদাগে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় একই ধরনের হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিধি অনুযায়ী আবার ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গবেষণা

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদ আছে। তবে সম্প্রতি দেশে চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে দেওয়া ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসাবিদ্যায় সম্ভবত তিনি প্রথম কোনো অধ্যাপক, যিনি অবসর নেওয়ার পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছিলেন।

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) দাবি করেছে, ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবনের জন্য দেওয়া ‘প্রফেসর ইমেরিটাস’ নিয়োগ ছিল বিধিবহির্ভূত ও বেআইনি।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি ওই অধ্যাপকের অনুকূলে দেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলেছে। (প্রথম আলো, ২৫ জুন ২০২৬)

অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদটি কতটা আইনি ছিল, সেই বিষয়ে আলোচনা করার আগে পাঠক চলুন আগে দেখে আসা যাক, বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ নিয়োগে/সম্মানিত করার বিষয়ে কী বলছে।

আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছি, সেই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বলা আছে, অবসর নেওয়ার পর একজন সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদধারীরা সাধারণভাবে ইমেরিটাস মর্যাদা লাভ করতে পারেন।

একটি সম্মিলিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বপ্ন

তবে যাঁরা ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, সেই ক্ষেত্রে তাঁদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ১০ বছর অধ্যাপনা করা, সেই সঙ্গে যে পদে ইমেরিটাস পদমর্যাদা প্রাপ্ত হবেন, সেই পদে শিক্ষা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ’ অবদান রাখা।

প্রায় একই ধরনের কথা বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির নীতিমালা এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বলা হয়েছে, অবসরের পর অধ্যাপকদের বিশ্ববিদ্যালয়, নিজ নিজ বিদ্যাক্ষেত্র অথবা উভয় ক্ষেত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইমেরিটাস মর্যাদা দেওয়া হয়, যা মূলত সংশ্লিষ্ট বিভাগে থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত ডিনের কাছে পাঠানো হয় এবং ডিনই চূড়ান্তভাবে ইমেরিটাস মর্যাদা অনুমোদন করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার ক্ষেত্রে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে অধ্যাপক পদ থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এ বি এম আবদুল্লাহর প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ ছিল বিধি-বহির্ভূত ও বেআইনি: বিএমইউ

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়েও মূলত একজন অধ্যাপক অবসর নেওয়ার পর ওই অধ্যাপকের দীর্ঘ ও অসামান্য একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইমেরিটাস’ প্রদান করা হয়।

এবার আসি অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ স্বীকৃতির বিষয়ে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ২০২৪ সালের ২০ জুন (স্মারক নম্বর বিএসএমএমইউ/২০২৪/৬২৯) প্রজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, ৯২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষার উন্নয়ন ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহকে ইমেরিটাস পদে আজীবনের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ইমেরিটাস নিয়োগ অধ্যাদেশ’ ৯-১০ ধারা অনুযায়ী, ওই অধ্যাপক তাঁর গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য তিনি পাঠাগার ও গবেষণাগারের সুবিধা পাবেন। তাঁর গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদানও পেতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার যৌক্তিকতা কতটুকু

তবে এই অধ্যাপককে ‘সম্মানী’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার সুবিধা ছাড়াও তিনি সিন্ডিকেট কর্তৃক নির্ধারিত হারে পেনশনসহ যে সম্মানী পাবেন, তা একজন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের বেতনের সমান।

অর্থাৎ একজন অবসরকালীন অধ্যাপকের পেনশন যদি ৫৭ হাজার টাকা হয়, তাহলে তিনি ২১ হাজার টাকার সম্মানীসহ ৭৮ হাজার টাকা পাচ্ছেন।

মানে দাঁড়াচ্ছে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁকে কিছুটা সম্মানী ভাতা দিচ্ছে।

এই যখন অবস্থা, তখন বর্তমান প্রশাসন যে বিবৃতিটি দিয়ে বলছে, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জারি করা অফিস আদেশে ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক আবদুল্লাহকে তিন বছরের জন্য ইমেরিটাস প্রফেসর নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই নিয়োগকালে তাঁকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসার সুবিধা ও সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিন্ডিকেট এই নিয়োগ নিয়ে কোনো আপত্তি করেনি বলে জানাচ্ছে।

মানে দাঁড়াচ্ছে, অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য, এটা নিয়ে তাঁদের যেমন কোনো আপত্তি নেই, তেমনি ৩ বছরের জন্য ৩০ হাজার টাকার সম্মানীতেও সমস্যা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় তখনই এই নিয়োগব্যবস্থাকে অবৈধ বলছে, যখন এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবনের জন্য ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় মূল এজেন্ডার (বাজেট অধিবেশনের) বাইরে গিয়ে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওই নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০২৪ সালের ২০ জুন, অধ্যাপক আবদুল্লাহর মাসিক সম্মানী তাঁর অবসরের সময়ের বেতন-ভাতার সমান নির্ধারণ করা হয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। (প্রথম আলো, ২৭ জুন ২০২৬)

এই বিষয় বেশ কিছু সূক্ষ্ম প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, ৩ বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগে ৩০ হাজার টাকার সম্মানী পাওয়াকে তারা ‘বিধি মোতাবেক নিয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিন্ডিকেট এ নিয়ে কোনো আপত্তি করেনি। তাহলে এখন কেন আপত্তি জানানো হচ্ছে?

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইমেরিটাস অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্যের মাধ্যমে মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু অধ্যাপক আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কেবল একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাঁকে আজীবনের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্ভবত একটা ভুল ধারণার মধ্যে আছে। প্রথমত, ২০২২ সালে অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ ‘তিন বছরের’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ভুল ছিল।

কারণ, দুনিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন কাউকে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সেটি কখনোই সময়ের ফ্রেমে বন্দী করে নয়, এটি অবশ্যই ‘আজীবনের’ জন্য হয়ে থাকে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর মতো সজ্জন চিকিৎসককে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ, কখনোই পলিটিক্যাল নিয়োগ নয়। এখন যদি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে ‘মার্ক’ করে কাউকে হেনস্তা করে, তাহলে সেটি প্রতিহিংসার ফসল বলে জনমনে ধারণা হতে পারে।

সেই হিসেবে ২০২৪ সালের ২০ জুন প্রজ্ঞাপনে ‘আজীবনের’ জন্য নিয়োগ স্বীকৃতিটিতে অবশ্যই যথাযথ ছিল। আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাঁরা ইমেরিটাস অধ্যাপক হয়েছেন, তাঁরা কেউ দুই বা তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। বরং এই স্বীকৃতি অতীব সম্মানের হওয়ায় তা আজীবন ধরে ওই অধ্যাপক বহন করতে পারেন।

ফলে একজন সদস্য যদি আগের নিয়োগটির ভুল ছিল কিংবা নতুন নিয়োগটি আজীবন হওয়া উচিত বলে দাবি করে, সেটিকে আপনি কীভাবে অনিয়মের চোখে দেখবেন?
ফলে এই যুক্তিও খাটে না।

হ্যাঁ, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অধ্যাদেশে ‘সম্মানী’ দেওয়ার নিয়ম না থেকে থাকে, তাহলে সেটিকে অনিয়ম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। কিন্তু যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি মনে করছে, এ বি এম আবদুল্লাহ প্রথম নিয়োগটি সঠিক মনে করেন, তাহলে ‘সম্মানী’ প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে না। তবে যেভাবে বিবৃতিটিতে ‘সম্মানী’ বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে তাঁর অবসরে যাওয়ার সময়ের বেতন-ভাতার সমান বলে টুইস্ট করা হয়েছে, তা ছিল মিথ্যাচার।

কারণ, অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টত বলা হয়েছে, পেনশনসহ মাসিক সম্মানী পাবেন, তা অধ্যাপক হিসেবে তাঁর অবসরে যাওয়ার সময়ের বেতন-ভাতার সমান।

মানে বিবৃতিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেতনভাবে ‘পেনশন’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। ফলে ওই শিক্ষকের সম্মানী ৩০ হাজারের চেয়ে কম, যা কখনোই মূল বেতনের সমান নয়।

এখন দেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসককে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘অধ্যাদেশের ভেতর’ থেকে যদি সম্মানী রাখার বিষয়টি থাকে, তাহলে সেটি কখনোই অনিয়ম নয়।

হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এই সম্মানীর বিষয়টি সিন্ডিকেটের সভায় আলোচনা করে বাতিল করতে পারত, কিন্তু ‘আজীবন’ ইমেরিটাস পদবি বাতিল কিংবা তাঁর বেতন-ভাতা ফেরত চাওয়ার মতো বিষয়গুলো কখনোই কাম্য ছিল না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর মতো সজ্জন চিকিৎসককে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ, কখনোই পলিটিক্যাল নিয়োগ নয়। এখন যদি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে ‘মার্ক’ করে কাউকে হেনস্তা করে, তাহলে সেটি প্রতিহিংসার ফসল বলে জনমনে ধারণা হতে পারে।

৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দপ্তরের সবাই আত্মগোপনে, চাকরিচ্যুত কিংবা দেশত্যাগী, কিন্তু এ বি এম আবদুল্লাহকে আমরা পালিয়ে যেতে দেখেনি, তিনি দেশের ভেতর থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তাঁর যদি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ থাকত, নিশ্চয় তিনি এমপি বা মন্ত্রী হতে পারতেন।

সম্ভবত তিনি চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় থাকতে চেয়েছেন। এই অধ্যাপকের অনেক বই মেডিক্যাল কলেজের ছেলেমেয়েরা পড়ছেন। নিয়মিত পত্রিকায় লিখছেন, আমাদের সংকটকালীন সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

এমন একজন চিকিৎসককে যদি কেবল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসক হওয়াকে দোষের কারণ হিসেবে দেখে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিবেদিত অধ্যাপক ও গবেষকেরা নিরুৎসাহী হয়ে উঠবেন, সমাজ ও রাষ্ট্রটাকে পলিটিক্যাল লেন্সে দেখতে শুরু করবেন।

আমাদের উচিত হবে, যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত চিন্তার ঊর্ধ্বে রেখে প্রাপ্ত সম্মান বুঝিয়ে দেওয়া, তাহলে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলত পারব। আশা করি, সরকার ও তার প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চর্চা বন্ধ করে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে।

  • ড. নাদিম মাহমুদ, গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    ই–মেইল: [email protected]