যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাজুড়ে চলছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। ৪৮টি দল লড়ছে ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়ের জন্য। এই ছয় সপ্তাহের আয়োজনের কেন্দ্রে আছেন ফিফা প্রধান সুইস-ইতালীয় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর্থিক বিচারে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাল্টিবিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া সাম্রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে কেবল অলিম্পিক।

ইনফান্তিনো বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, ‘রাজনীতি ফুটবলের বাইরে থাকা উচিত এবং ফুটবলও রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত।’ কিন্তু রাজনীতি যেন তাঁকে অনুসরণ করেছে সর্বত্র। আর মধ্যপ্রাচ্যের মতো জায়গায় সেটি এতটা স্পষ্ট, যা আর কোথাও নয়।

দুর্নীতিকাণ্ডে জর্জরিত সেপ ব্লাটারের জায়গায় ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হওয়ার পর সাবেক উয়েফা কর্মকর্তা ইনফান্তিনো শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতীকী ম্যাচ আয়োজন এবং আনুষ্ঠানিক করমর্দনের উদ্যোগ নিতে চেয়েছেন। তবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে তাঁর ভূমিকা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসের’ সঙ্গে চুক্তি এবং প্রশ্নবিদ্ধ মানবাধিকার পরিস্থিতির দেশগুলোতে টুর্নামেন্ট আয়োজনকে উৎসাহিত করার কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন।

ইনফান্তিনো মধ্যপ্রাচ্যকে ভালোভাবেই চেনেন। তাঁর স্ত্রী লিনা আল-আশকার লেবাননের নাগরিক। আর তিনি নিজেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছ থেকে লেবাননের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বর্তমান বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্ব যখন নকআউট ধাপের দিকে এগোচ্ছে, তখন এই অঞ্চলে ইনফান্তিনো কী কী করেছেন, তার কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। দেশগুলো হলো ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত ৭৫টি দেশে বিস্তৃত হয়।

ইনফান্তিনো ২০১৭ সালের মার্চে সতর্ক করেছিলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনো দেশকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘যেসব দল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে, তাদের আয়োজক দেশে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। না হলে সেটি বিশ্বকাপই নয়। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাষ্ট্র নয়—এমন কোনো বিষয় জড়িত নয়। এটা কেবলই সাধারণ এক ক্রীড়া মানদণ্ড।’

তাঁর কথাগুলো ছিল অত্যন্ত হিসাব করে বলা। কারণ, পরের মাসেই যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিড করে। পরে ২০১৮ সালের জুনে মেক্সিকো ও কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে সেই আয়োজনের অধিকার পায় তারা। কিন্তু আট বছর পর, যখন বিশ্বকাপের ৭৮টি ম্যাচের আয়োজক হয় যুক্তরাষ্ট্র, তখন সেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব সামনে আসে। ইরান তাদের ম্যাচগুলো খেলেছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ হাজার হাজার ইরানির প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু ইরানি সমর্থকদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়ি দলটির সঙ্গে আচরণ নিয়ে ফিফা ও ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল পুরো বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে নিপীড়িত দল।’ গালেনোয়ির দাবি, প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের বলেন, তাদের অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে এবং মেক্সিকোয় থাকা প্রশিক্ষণ শিবিরে ফিরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে—আমাদের হয়ে অন্য কেউ পরিকল্পনা করছে।’

এদিকে ফিফা মনোনীত সোমালিয়ান রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা’ রয়েছে। ফিফা আরতানকে পুরো টুর্নামেন্টের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে। অন্যদিকে উয়েফা তাঁকে আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য প্যারিস সেন্ট জার্মেই ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। অন্যদিকে ইরাকের স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটক হন এবং সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন। পরে তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি নরওয়ের বিপক্ষে দলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করেন।

ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালি স্বভাবের নেতাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্যও নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেস থেকে সদস্য দেশগুলোর কয়েকজন প্রতিনিধি ওয়াকআউট করেন। কারণ ইনফান্তিনো কয়েক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান, ফলে কার্যক্রম বিলম্বিত হয়।

ইনফান্তিনো তখন মধ্যপ্রাচ্য সফরে ছিলেন এবং সৌদি আরব ও কাতারে নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রকাশ্য বিরোধে উয়েফা অভিযোগ তোলে, ইনফান্তিনো খেলাধুলার চেয়ে ‘ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থকে’ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইনফান্তিনো অবশ্য এর জন্য ফ্লাইট বিলম্বকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, এবং আমি মনে করেছি ফুটবল এবং আপনাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করতে সেখানে থাকা আমার প্রয়োজন ছিল।’

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের জন্য পরিচিত। আর সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দেন। ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের’ স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ‘অবিশ্বাস্য এক উপায়ে এটি অর্জন করেছেন।’ বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আপনি সব সময়ই আমার সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’ ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘Melania’-এর প্রিমিয়ারেও অংশ নেন তিনি। ফিফা নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ট্রাম্প টাওয়ারে একটি অফিসও ভাড়া নেয়।

কাতারকে ফিফা ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বেছে নেয় ২০১০ সালেই। অর্থাৎ, ইনফান্তিনো ক্ষমতায় আসার ছয় বছর আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই টুর্নামেন্টটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে সামনে এনে দেশটির বিরুদ্ধে ‘স্পোর্টস-ওয়াশিংয়ের’ অভিযোগ ওঠে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কাতারে ৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অনেকে বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণকাজেও যুক্ত ছিলেন।

কাতারের গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শীতকালে আয়োজন করা হয়। সমালোচনা যখন বাড়ছিল, তখন টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন, ২০২২ সালের ১৯ নভেম্বর, ইনফান্তিনো ৫৭ মিনিটের একটি দীর্ঘ ও বিচ্ছিন্নধর্মী বক্তব্য দেন।

তিনি ঘোষণা করেন, ‘আজ আমার অনুভূতি খুবই তীব্র। আজ আমি নিজেকে কাতারি মনে করছি। আজ আমি নিজেকে আরব মনে করছি। আজ আমি নিজেকে আফ্রিকান মনে করছি। আজ আমি নিজেকে সমকামী মনে করছি। আজ আমি নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করছি। আজ আমি নিজেকে একজন অভিবাসী শ্রমিক মনে করছি।’

ইনফান্তিনো কাতারের সমালোচকদেরও পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ থেকে লাখ লাখ শ্রমিক কাতারে আসে এবং তারা আগের তুলনায় বহু গুণ বেশি আয় করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। তারা বৈধ উপায়ে এটি করছে। অনেক সংস্থা স্বীকার করেছে যে—এখানে শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত মান পশ্চিম ইউরোপের মতোই, নিরাপত্তার মানও একই রকম।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। অ্যামনেস্টি অভিযোগ করে, ইনফান্তিনো ‘তাঁর দায়িত্বের প্রধান টুর্নামেন্ট বাস্তবায়নের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের যে বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে এবং সে বিষয়ে ফিফার যে দায়, তা উপেক্ষা করছেন।’ জবাবে কাতার দাবি করে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো ‘বর্ণবাদপ্রসূত’ এবং এটি দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ। কারণ, অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো একই মাত্রার পর্যালোচনার মুখে পড়েনি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

ইনফান্তিনোর সেই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক ২০২৩ সালেও চলতে থাকে। সে বছর নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সব নারীকেই বলি—আর আপনারা জানেন আমার চার মেয়ে আছে, তাই বাসায় আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে...আমি সব নারীকেই বলি, পরিবর্তন আনার ক্ষমতা আপনাদের আছে...সঠিক লড়াই বেছে নিন। সঠিক যুদ্ধ বেছে নিন।’

প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। তাহলে শতবর্ষপূর্তির বিশ্বকাপ, অর্থাৎ ২০৩০ আসরের আয়োজক কে হবে? যৌথ আয়োজক হওয়ার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি ও প্যারাগুয়ের আবেগনির্ভর উদ্যোগ। অন্যদিকে পর্তুগাল ও স্পেনের একটি যৌথ প্রস্তাবও ছিল, যেখানে এক পর্যায়ে ইউক্রেনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

কিন্তু ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে মরক্কো নিজদের নাম প্রস্তাব করে, যদিও এর আগে দেশটি ছয়বার ব্যর্থ হয়েছিল। গত দুই দশকে দেশটি ফুটবলকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই লেখাটি যখন প্রকাশ হচ্ছে তখন দেশটির র‍্যাংকিং ছিল ৬ এবং কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল।

এর আগে, মরোক্কো ২০২৬ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস আয়োজন করে এবং বিতর্কিত এক ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতে নেয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত কারিগরি প্রতিবেদনে দেখা যায়, মরক্কো-পর্তুগাল-স্পেনের যৌথ বিড প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

অবশেষে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত ফিফার বিশেষ কংগ্রেসে ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেন, স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো। আর টুর্নামেন্টের শতবর্ষ স্মরণে দক্ষিণ আমেরিকায় তিনটি ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

কিন্তু ঘোষণাটিতে তাঁর আগের কয়েক বছরের রাজনৈতিক তৎপরতা ও দরকষাকষির কোনো ইঙ্গিত ছিল না। ফিফার অবস্থান হওয়ার কথা বিড প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে। তবে ফাঁস হওয়া বার্তাগুলো দেখায়, ২০১৮ সালে ইনফান্তিনো মরক্কোকে স্পেন-পর্তুগালের যৌথ বিডে যুক্ত হওয়ার ধারণা সামনে এনেছিলেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লুইস রুবিয়ালেসকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, ‘আপনি এবং ইনফান্তিনো দুজনেই আমাকে এই ধারণাটি দিয়েছিলেন।’ জবাবে রুবিয়ালেস সানচেজকে বলেন, ‘ফিফা যেহেতু নিরপেক্ষ একটি সংস্থা, তাই এ বিষয়ে তাদের সম্মতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা উচিত নয়।’

ফিফার দাবি, বিড সংক্রান্ত আলোচনায় ইনফান্তিনোর কোনো ভূমিকা ছিল না। তারপরও অনেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এই কারণে যে—২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো আফ্রিকান দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন হবে। তবে অন্যরা মরক্কোর মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে চলমান দখলদারিত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘যারা মরক্কোতে যাবে, তারা এমনভাবে স্বাগত পাবে যা পৃথিবীর আর কোথাও পাবে না। এটি হবে মানবতা, ফুটবল এবং একসঙ্গে থাকার এক বিশাল উদযাপন।’ মরক্কো ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী মার্চে রাবাতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফার পরবর্তী কংগ্রেস, যেখানে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন।

২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব সৌদি আরবকে তুলে দিয়েছেন ইনফান্তিনো

ফিফার সেই একই কংগ্রেসে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সৌদি আরবকে। আর এ সিদ্ধান্ত ঘিরেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনা ওঠে। বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফা ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের মধ্যে পালাক্রম নীতি অনুসরণ করে। কোনো কনফেডারেশনকে আবার আয়োজক হতে হলে অন্তত দুটি টুর্নামেন্ট চক্র অপেক্ষা করতে হয়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকা, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। আর ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল, আফ্রিকার মরক্কো এবং দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

এই হিসাবে ২০৩৪ সালের আয়োজক হওয়ার যোগ্য ছিল শুধু এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল, যার সবচেয়ে বড় সদস্য নিউজিল্যান্ড। ২০৩৪ বিশ্বকাপের বিড আহ্বান করা হয় ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এবং মাত্র ২৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে আবেদন চাওয়া হয়। সৌদি আরব—যারা খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে—সেদিনই তাদের বিড ঘোষণা করে।

আর সময়সীমার শেষ দিনে একমাত্র অন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া সরে দাঁড়ায়। কংগ্রেসে ফিফার প্রতিনিধিদের সামনে ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত একসঙ্গে অনুমোদনের জন্য তোলা হয়। অর্থাৎ, একটি প্রত্যাখ্যান করলে অন্যটিও বাতিল হয়ে যেত।

সৌদি আরব ছিল একমাত্র বিডদাতা এবং ২০৩০ নিয়েও আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। তখন ইনফান্তিনো ভিডিও ওয়ালের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি এখন আপনাদের অনুরোধ করব করতালির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০৩০ এবং ফিফা বিশ্বকাপ ২০৩৪-এর আয়োজক দেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য। যদি সম্মত থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে করতালি দিন।’ কয়েক সেকেন্ড করতালির পর ইনফান্তিনো বলেন, ‘কংগ্রেসের ভোট স্পষ্ট এবং জোরালো।’ পরে সৌদি আরবকে আয়োজক নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ সেখানে সামাজিক উন্নয়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনেরও একটি অনুঘটক হবে।’

অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ২১টি মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে ফিফার এই সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

ইনফান্তিনো ২০১৮ সালে ইরাকে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮৬ সালে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ফলে ইরাককে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বিদেশে খেলতে হতো। ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের আগে ইরাক বসরা ও কারবালায় বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ আয়োজন করে। এ বছর দেশটি ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে এখনো বাগদাদে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নেই।

অন্যদিকে ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীদের স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখার ওপর দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফিফা ইরানকে নারীদের ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়।

এর আগে সাহার খোদায়ারি নামে এক নারী ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে দেন। তিনি পুরুষের ছদ্মবেশে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেই সময় ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং দৃঢ়। ইরানে নারীদের ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দিতেই হবে।’ পরবর্তী কয়েক বছরে ইরান সরকার ধীরে ধীরে সীমিত সংখ্যক নারীকে তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে খেলা দেখার অনুমতি দিতে শুরু করে। তবে এখনো নারীদের জন্য টিকিট বরাদ্দ সীমিত এবং কেবল নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচেই তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

ফুটবলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০২১ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল সফরের সময় তিনি প্রস্তাব দেন, ভবিষ্যতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে ইসরায়েল। ইসরায়েল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে কি না জানতে চাইলে ইনফান্তিনো বলেন, ‘অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমাদের বড় করে ভাবতে হবে।’

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনফান্তিনো আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একটি চুক্তিতে সই করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি মনে করি যৌথ আয়োজক হওয়াই ভবিষ্যৎ। তাহলে কেন আমরা স্বপ্ন দেখা আর তা নিয়ে ভাবা বন্ধ করব?’ তাঁর এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। পরের বছর প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি দল ইসরায়েলে গিয়ে খেলেছিল।

এরপর, ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করা রাশিয়াকে ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইনফান্তিনো রাশিয়াকে পুনর্বহালের আহ্বান জানান এবং বলেন, ইসরায়েলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে সেটি হবে ‘একটি পরাজয়।’

চলতি বছরের মার্চে ফিফা ঘোষণা দেয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্লাবগুলোকে খেলতে দেওয়ার কারণে তারা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। ফিফা জানায়, ‘পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান এখনো জনআন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অনিষ্পন্ন এবং অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়।’

এর বদলে তারা জানায়, তারা ‘ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে কার্যকরী পর্যায়ে সংলাপ উৎসাহিত করবে এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেবে।’ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

পৃথকভাবে, ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে। কারণ, বেইতার জেরুজালেম ও মাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সমর্থকদের ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী গালিগালাজের’ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা। ‘সংলাপ’ এবং ‘মধ্যস্থতার’ এই প্রচেষ্টা চলতি বছরের শুরু থেকেই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা ‘বোর্ড অব পিসের’ সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তি করে। এই বোর্ডটি ট্রাম্প গঠন করেছিলেন ভবিষ্যতে গাজা পরিচালনার লক্ষ্যে, যদিও এতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব নেই। ইনফান্তিনো বলেন, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো, ‘সংঘাত-পরবর্তী অঞ্চলের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ফুটবলে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা।’

এরপর আসে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রতিনিধিদের করমর্দনের ঘটনা। ইনফান্তিনো চেষ্টা করেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জিবরিল রাজুবকে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেইমানের সঙ্গে করমর্দন করাতে। কিন্তু রাজুব তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলে ওঠেন, ‘আমরা কষ্টে আছি!’ এরপর তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

পরে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজুব ইনফান্তিনোকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘এমন একজনের সঙ্গে করমর্দন করতে পারেন না, যাকে ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যাকে ধুয়ে-মুছে গ্রহণযোগ্য দেখানোর জন্য সামনে এনেছে।’

এই ব্যর্থ বিনিময়ের পরও ইনফান্তিনো ঘোষণা দেন, তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করব, প্রেসিডেন্ট রাজুব, ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলেইমানসহ আমরা সবাই শিশুদের আশা দেওয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। এগুলো জটিল বিষয়।’

শিশুদের এই বিষয়টিই যেন নতুন একটি ফাঁস হওয়া ফিফা উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের মধ্যে একটি প্রতীকী ‘শান্তি ম্যাচ’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করেনি।

প্রীতী ম্যাচের ধারণাটি প্রথম তুলেছিলেন ইনফান্তিনোর পূর্বসূরি সেপ ব্লাটার। ২০১৫ সালে। তবে তখনকার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থন থাকলেও ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরোধিতার কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা নতুন এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং তারা ‘এমন কোনো ম্যাচ আয়োজন বা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে প্রতিপক্ষ এমন একটি দখলদার শক্তি, যারা নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে।’

অন্যদিকে, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক মুখপাত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশে জুয়ারেস ফিফা কংগ্রেসসহ বিভিন্ন জায়গায় বহুবার প্রকাশ্যে যা বলেছেন, সেটিতেই অটল থাকবেন। আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি যে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং শান্তি এগিয়ে নিতে ফুটবলকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।’

মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান