খ্যাতনামা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর ‌‘আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস’ পদ বাতিলের বিষয়ে জবাব দেয়নি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানে থাকেননি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। নিকট অতীতে উপাচার্য ছাড়া এমন অনুষ্ঠান হওয়ার নজির নেই। 

শনিবার (২৭ জুন) বাজেট নিয়ে ১০০তম সিন্ডিকেট সভা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির। এরপরে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদ সম্মেলনে আসবেন, আমন্ত্রণপত্রে এমনটাই উল্লেখ ছিল। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের যে আয়োজন করা হয়েছে, তার ব্যানারেও উপাচার্যের নাম ছিল। কিন্তু তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সভার বিষয়ে অবহিত করেন। 

এ সময় বাজেট নিয়ে নানা প্রশ্নোত্তর শেষে অধ্যাপক ডা এবিএম আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস বাতিল এবং সম্প্রতি মারা যাওয়া চিকিৎসকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

এসব জবাব প্রশাসনের কাছ থেকে জেনে নিতে বলেন। অথচ, উপাচার্য ছাড়া প্রশাসনের সবাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এই প্রথম বাজেট সিন্ডিকেটের পর সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য নেই। এর আগে এমনটি হয়নি। তিনি কি আমাদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলতেই এই কৌশল নিয়েছেন? এর সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

তারা বলছেন, আজকে তারা শুধুই বাজেট ইস্যুতে কথা বলবেন।

আরও পড়ুন

আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হলেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট অদ্য ২৭/০৬/২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ২৯তম বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৬৩ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১০৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে পাস হয়। বাজেটে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা ঘাটতি বাজেট পরিলক্ষিত হয়; যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদার মাধ্যমে সংকলন করা হবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় সুস্বাস্থ্য্যের বাংলাদেশ’। চিকিৎসা হবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে, সামর্থ্যের ভিত্তিতে নয়। একটি সুস্থ্য ও সমৃদ্ধ জাতি-গঠনে চিকিৎসা সেবা ও গবেষণাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তব সম্মত, উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণ কেেন্দ্রীক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার পরবর্তী চাহিদাকে সামনে রেখে কস্ট কন্ট্রোল ও কস্ট রিডাকশন ব্যয়নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এই বাজেট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক উন্নয়নে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন; ডিজিটাল ক্লাস রুম ও ই-লার্নিং গবেষণার অনুদান বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংযোজন, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড চালসহ বিনামূল্যে ওষুধ দিতে অতিরিক্ত টাকার বরাদ্দের গুরুত্ব দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই বাজেট।’ 

এসইউজে/এমআরএম