ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইন, পরীক্ষার কিট ও অন্য সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম।

এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) জাগো নিউজ আয়োজিত ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় একথা জানান ডা. ফোয়ারা।

আরও পড়ুন

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা / ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায় চাপানো নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছে এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তাগুলো অনেক সময় মানুষ প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয় না, যা পরিবর্তন করা জরুরি।

দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের জন্যও পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে না হয়। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় কিটসহ সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেইগোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগী কখন ভর্তি করতে হবে, কী কী পরীক্ষা করতে হবে এবং কীভাবে চিকিৎসা দিতে হবে এসব বিষয়ে একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন বলে জানান ডা. ফোয়ারা তাসমীম।

আরও পড়ুন

২ বার হলে নিশ্চিত মৃত্যু? ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর সত্যতা কতটুকু

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সরকার এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হকের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিস্ট ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভিন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।

আরএএস/এএসএ