নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের খতিব মুফতি হারুনুর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অব্যাহতি দেওয়া শিক্ষক মুফতি হারুনুর রশিদের পক্ষে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্রদের একাংশ এবং মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তাহের জিহাদি পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ নিয়ে রোববার দুপুরে থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে হৈচৈই স্লোগান ও উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই মধ্যে একপক্ষ প্রচারণা চালায় বহিরাগতরা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এসে মাদ্রাসার সামনে ভিড় করে। খবর পেয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চারদিন আগে মাদ্রাসার দেওভোগ জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদের খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি হারুনুর রশিদকে বিভিন্ন অভিযোগ এনে মাদ্রাসার কমিটি চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। মুফতি হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের লোক। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তাহের জিহাদি সম্প্রতি মাদ্রাসায় ছাত্রদের নিয়ে তার রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের কমিটি গঠন করে। এ নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাদ্রাসা মসজিদের খতিব মুফতি হারুনুর রশিদ ছাত্রসংগঠন কমিটি গঠন নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে। এ নিয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে শিক্ষক হারুনুর রশিদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে প্রিন্সিপাল মাদ্রাসা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে নানা অভিযোগ তুলে মসজিদের খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে তাকে অব্যাহত প্রদান করে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপালর জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রদলের জেলার সভাপতি জাকির খান মাদ্রাসায় গিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করবেন। একই সঙ্গে সামায়িক সময়ের জন্য মুফতি হারুনুর রশিদকে চাকরিতে বহাল করা হলো। এই কথা বলার পর বিক্ষুব্ধরা মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। তবে প্রিন্সিপাল কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন।