তালতলী ও আমতলী উপজেলায় ব্যাপক হারে লামপি স্কিন রোগে দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু এবং হাজার হাজার গরু ও মহিষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন রোগে ব্যাপক হারে গরুর মৃত্যুর ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এই রোগের পাশাপাশি খুরা রোগের প্রকোপও চরম আকার ধারণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে তালতলী ও আমতলী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গরু-মহিষ ও ছাগলের খুরা রোগের আক্রমণ শুরু হয়। ওই মাসের শেষের দিকে শুরু হয় গরুর লামপি স্কিন ভাইরাসের। ১৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলার কয়েক হাজার গরু-মহিষের মধ্যে খুরা রোগ দেখা দেয়। এর ১৫ দিনের ব্যবধানে মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে উপজেলার সর্বত্র মহামারি আকারে গরুর শরীরে লামপি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭০টি গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০। মহিষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৫০টি ও ১৯ হাজার ৬২০টি ছাগল রয়েছে।

রবি ও সোমবার দুদিন আমতলী উপজেলার হলদিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ইউনিয়নের মানিকঝুড়ি, ছুরিকাটা, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটার বিভিন্ন গ্রাম সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার। খুরা রোগে মারা না গেলেও আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ছুরিকাটা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানান, লামপি স্কিন রোগে আমার ২ লাখ টাকা দামের ৩টি গরু মারা গেছে। গরু ৩টি মারা যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমতলী সদর ইউনিয়নের লোছা গ্রামের ইয়াছিন বলেন, লামপি স্কিন রোগে আমার ১ লাখ টাকার একটি গরু মারা গেছে। মানিকঝুড়ি গ্রামের নিজাম হাওলাদার জানান, খুরা রোগে তার ৭টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। হলদিয়া গ্রামের ছত্তার হাওলাদার এবং চাওড়া গ্রামের রাজু বয়াতি বলেন, কৃষকের ঘরে ঘরে গরু-মহিষের খুরা রোগ আর লামপি স্কিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

হলদিয়া গ্রামের ছত্তার মোল্লা বলেন, এখন কৃষকের আউষ ও আমন ধান চাষের মৌসুম। এ সময়ে লামপি স্কিন আর খুরা রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। পশ্চিম আঠারগাছিয়া গ্রামের জুলহাস প্যাদা বলেন, আমার ৫টি গরুর খুরা রোগ হয়েছে। খুরা রোগ হওয়ার পর গরু ঝিমায়, মুখ দিয়ে লালা পড়ে, ঘাস খাওয়া বন্ধ করে দেয়। গরুর গায় জ্বর থাকে। ঘাস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় গরু অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে।

আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামন বলেন, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার গরু লামপি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। খুরা রোগে প্রায় ১৫-১৮ হাজার গরু-মহিষ আক্রান্ত হয়েছে। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মীর. মো. আশিক বাবু বলেন, এ রোগের চিকিৎসা তেমন একটা নেই। গরুর খুরা রোগ হলে অন্য গরু থেকে আলাদা করে রাখতে হবে। কারণ গরুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সুস্থ গরুর মধ্যে এ রোগটি ছড়ায়। লামপি স্কিন হলে মশা-মাছির মাধ্যমে এ রাগ ছড়ায়। তাই এ রোগ হলে গরুকে আলাদা মশারি টানিয়ে রাখতে হবে।