চলতি বছর প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আল-কুরআনের সহিহ তাফসির, জ্ঞান চর্চা, গবেষণা বৃদ্ধি, প্রজ্ঞাবান আলেম ও মুফাসসির তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিযোগীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। ২টি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা হবে। ‘ক’ গ্রুপে ফাজিল/জালালাইন/দাওরায়ে হাদীস/কামিল/আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী (বয়স অনুর্ধ্ব ৩০ বছর)। তাফসিরের বিষয় সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারাহ ও সূরা আলাক। ‘খ’ গ্রুপে কামিল/দাওরায়ে হাদীস/আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাদরাসা শিক্ষক, খতিব, ইমাম, গবেষক, দাঈ, ইসলামী লেখক, ওয়ায়েজ ও সংস্কৃতিকর্মী (বয়স অনূর্ধ্ব ৪০ বছর)। তাফসিরের বিষয় সুরা আন-নূর, সুরা ইয়াছীন, সুরা হুজরাত, সুরা আর রাহমান ও সুরা ওয়াকিয়াহ।

এ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের ৯ লাখ টাকা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের জন্য ৭ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার ২ লাখ টাকা প্রতিটি, ১ম রানার্সআপ পুরস্কার দেড় লাখ টাকা প্রতিটি ও ২য় রানার্স পুরস্কার ১ লাখ টাকা প্রতিটি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

জুমার খুতবা / জীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলাম পালনের গুরুত্ব

জাতীয় পর্যায়ে ২টি গ্রুপে ৬ জন বিজয়ীকে ৯ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম পুরস্কার বিজয়ীকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ২য় পুরস্কার বিজয়ীকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ৩য় পুরস্কার বিজয়ীকে নগদ ১০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ৬ জন বিজয়ীকে ৯০ হাজার টাকা হিসাবে ৮টি বিভাগে ৪৮ জন বিজয়ী ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া করা হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৮ জন বিজয়ীকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার পূর্বে ঢাকায় ৭দিনের ইন হাউজ গ্রুমিং বা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

আবেদনকারীদের বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আরবি ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী হতে হবে। পবিত্র কোরআনের শাব্দিক অর্থসহ তরজমা করার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া উলুমুল কোরআন, উসুলুত তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, ইলমুন নাহু, ইলমুস সরফ এবং বালাগাতসহ প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনে এই লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আগ্রহী প্রতিযোগীদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়- ঢাকা/চট্টগ্রাম/রাজশাহী/খুলনা/সিলেট/বরিশাল/রংপুর/ময়মনসিংহের যে কোনো একটি কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং তা অনলাইন আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।

সাফওয়াতুত তাফাসীর, কালিমাতুল কোরআন, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে মাজহারী, তাফসীর ইবনে কাছীর ও তাফসীরে মারেফুল কোরআন এ প্রতিযোগিতায় সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এমইউ/এমআইএইচএস/