ঢাকার ধামরাইয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৫) ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে শ্যামলীর হেলথ কেয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
নিহত আনোয়ার হোসেন মোল্লা সাভার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া গ্রামের মৃত শাহজাহান মোল্লার ছেলে।
ধামরাই থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন ধামরাই উপজেলার বড় কুশিয়ারা এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাপজোখ চলছিল। এ সময় মাপজোখকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আনোয়ারের ছোট ভাই খোকন মোল্লা এবং তাঁর দুই ছেলে ইফাদ মোল্লা ও ফাহাদ মোল্লা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তাঁর অপর ভাই মনির হোসেন মোল্লার (৫০) ওপর হামলা চালান। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আনোয়ার হোসেন মোল্লার অবস্থার অবনতি হলে ২৮ জুন তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে শ্যামলীর হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুর ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
অপর আহত মনির হোসেন মোল্লার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনার পর মনির হোসেন মোল্লার স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে গত ২৮ জুন ধামরাই থানায় খোকন মোল্লা, তাঁর দুই ছেলে এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহতের চাচা সাভার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, খোকন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, খোকনের দুই ছেলে ইফাদ ও ফাহাদও এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত।
আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, তাঁর ভাই শাহজাহান মোল্লা জীবদ্দশায় সন্তান ও নাতিদের মধ্যে জমি ভাগ করে দিয়ে দলিলে প্রত্যেকের অংশের সীমানা নির্ধারণ করে যান। সম্প্রতি খোকন মোল্লা নিজের অংশ বিক্রি করার পর তাঁর দুই ছেলের অংশ বিক্রির উদ্যোগ নিলে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে।
আবুল হোসেন মোল্লার অভিযোগ, হামলার শিকার হয়েছেন তাঁর দুই ভাতিজা। অথচ অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় নিহত আনোয়ার হোসেন মোল্লা, আহত মনির হোসেন মোল্লা, তাঁদের ছেলেরা এবং তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খোকন মোল্লা এবং তাঁর দুই ছেলে ইফাদ ও ফাহাদ মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত আলী বলেন, `আনোয়ার হোসেন মোল্লার মৃত্যুর সংবাদ আমরা পেয়েছি। যেহেতু তাঁর মৃত্যু অন্য থানা এলাকায় হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করবে।'
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শওকত আলী বলেন, `উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। তবে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে একটি মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'








