মেয়েদের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিন বাসায় কী হয়েছিল, সেসব ঘটনা জানালেন গুলতেকিন খান। ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ফেসবুক আইডিতে পোস্টের মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেন এই কবি ও কথাশিল্পী। একই সঙ্গে বর্তমান অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন সন্তানদের পাশে থাকার।

গুলতেকিন খান লিখেছেন, ‘আমার বড় মেয়ে, নোভা এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে আমাদের কাউকে সঙ্গে নেয়নি। বাসায় ফিরে আসার সাথে সাথে আমি তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি আর বলি, ‘আমার মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে, ম‍্যাট্রিক (আমাদের সময় এটাই বলা হতো) পাস করেছে!’ শীলার সময়েও একই কথা বললাম।

বিপাশা, আমার ছোট মেয়ের রেজাল্টের দিন আমি বাসায় ছিলাম না। রেজাল্ট বের হবে শুনেই বাসায় ফিরে এলাম। কলিং বেলের শব্দ শুনে আমিই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললাম। সেবারও বিপাশাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললাম। আর বললাম, ‘আমার মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে, ম‍্যাট্রিক পাস করেছে!’

আরও পড়ুন

মাতৃভূমির পুলিশ অফিসাররা যদি এমন হতো

কিছুক্ষণ পর শীলা কলেজ থেকে ফিরে আমাকে তার ঘরে নিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘তুমি কি ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছো? আর কী বলেছো ওকে?’ আমি তো আর এগুলো মুখস্থ করে রাখিনি। যা মনে হয়েছে তাই বলেছি। শীলা বললো, ‘বাঁচলাম!’ আমি বলি, ‘কেন?’ তখন সে বলল, ‘আমাদের দুজনকেই তো তুমি কাঁদতে কাঁদতে একই কথা বলেছো। ওর ধারণা, ওকে তুমি ভালোবাসো না। ওর রেজাল্টের পর যদি একই কথা না বলো, তাহলে বিপাশার ধারণাই সত্যি হবে।’

ওই সময়ে আমরা ব‍্যক্তিগত কিছু সমস‍্যার মধ্যে ছিলাম। এমনিতেই বাসার পরিবেশ ভালো নেই। তার ওপর আবার বিপাশার এই ধারণা! ভাগ‍্যিস তিনজনের এসএসসির রেজাল্টের পর একই কথা বলেছিলাম! শুধু মুখের কথার এদিক-সেদিক হয় তাহলে পরীক্ষার ফল খারাপ হলে কী করতো কে জানে!

কালকে দেশের এসএসসির রেজাল্ট বের হবে। সবাই তো আর একইভাবে পরীক্ষা দেয়নি অথবা একই রেজাল্ট হবে না। এটা ওদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। আমি হাতজোড় করে বলছি, আপনারা নিজেদের সন্তানদের একটু আদর ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরুন! তাদের একটু সময় দিন, পছন্দের কোনো খাবার রান্না করুন অথবা যেখানে নিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগবে সেখানে নিয়ে যান! প্লিজ, বাইরের কারো সামনে তাদের কিছু বলবেন না। যা তাদের মনের ভেতরে আঘাত করবে!

আরও পড়ুন

ডা. শিলা সেনের পোস্ট / রক্তের সম্পর্ক নয়, ভালোবাসার সম্পর্কে তিনি আমার আপন ভাই

এই বয়সে তারা খুব অভিমানী হয়! তারা যেন ভুল করে বা ভুল বুঝে দূরে কোথাও চলে না যায়! একটি পরীক্ষা যেন তাদের জীবনে খারাপ প্রভাব না ফেলে! সব মা-বাবা, ভাই-বোন এবং অভিভাবকদের বলছি, ওদের একটু সময় দিন। যদি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হয়, তাহলে জড়িয়ে ধরে বলুন, ‌‘বাবা, আমরা পরের বার আবার চেষ্টা করবো!’ কিংবা ‘সামনের পরীক্ষাগুলো অনেক ভালো হবে!’

এসইউ