নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর ১৩ বছর বয়স হওয়ার পর আদালতের রায়ে তার পিতার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে শিশুটির বাবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আজ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ড পাওয়া আসামি (৩৫) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি নূরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটি তার বাবার পরিচয়ের ব্যাপারে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন যে শিশুটি তার বাবার সম্পত্তিতে আইনানুগ অধিকার ভোগ করবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামের এক বাসিন্দা (আসামি) এক বিধবাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার ১০ দিন পর ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলার বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী নারীর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে শিশু ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে আসামিই শিশুটির বাবা বলে প্রমাণিত হয়। পরে পুলিশের জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।








