দিনাজপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা পুলিশে হাতে আটক হয়েছেন। এ সময় অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ওই নেতাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির কথিত সদস্য হাসীন ইসরাক মিম (২২), মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে (৫৮) তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। দর-কষাকষির পর ৪ লাখ টাকায় তাকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় তারা। সেই অনুযায়ী সামাদের ছেলে মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে অপহৃত সামাদকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করা হয় আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে।পুলিশ জানায়, আটক নেতাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও যুব শক্তির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলে পুলিশ আরও তিনজনকে আটক করে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে সামাদের ছেলে মামুন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এনসিপি সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।কোতোয়ালি থানার ওসি নুরন্নবী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিষয় জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হাসীন ইসরাক মিম তাদের জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেন।
রাজনীতি
দিনাজপুরে এনসিপির দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন







